12 Dec 2025 | Pic: Collected
মেক্সিকো সরকার ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোর কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে ভারতের রফতানি খাতে বড় প্রভাব পড়তে পারে, কারণ এই সিদ্ধান্তে গাড়ি, অটোপাট, স্টিল, প্লাস্টিক, টেক্সটাইলসহ প্রায় ১,৪০০ পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, মেক্সিকোর সিনেট এই নতুন শুল্ক আইন অনুমোদন করেছে যাতে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়া যায় এবং আমদানি কমিয়ে আনা হয়।
এই শুল্কের আওতায় এমন দেশগুলো পড়বে যাদের সঙ্গে মেক্সিকোর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নেই — যার মধ্যে ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া অন্যতম; মেক্সিকো বলেছে এই সিদ্ধান্ত দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে নেওয়া হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর পেছনে সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ও USMCA (United States-Mexico-Canada Agreement)-র পুনঃসমীক্ষার প্রস্তুতির মতো কৌশলগত কারণও রয়েছে এবং এমনটিতে ব্যাপক বিরোধ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ ভারতের মোট প্রায় ৭৫ শতাংশ রফতানি যেখানে পূর্বে কম শুল্কে সরাসরি বাজার পেত সেখানে এখন নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে।
বিশেষ করে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, স্টীল, টেক্সটাইল ও ইলেক্ট্রনিক্স-এর ওপর শুল্ক ২০% থেকে ৩৫-৫০%-এ বাড়বে, ফলে অনেক পণ্য বাজারে অকার্যকর ও দাম বাড়ানো হয়ে যেতে পারে, ২০২৪-২৫ সালে ভারত-মেক্সিকো বিপণন মূল্য প্রায় ৫.৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং মেক্সিকো ভারতীয় গাড়ির তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ছিল, এসব ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক শিল্পীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে এবং এতে রফতানি কর পরিমাণ কমাতে/FTA-র জন্য বেআচরণ শুরু করার দাবি উঠেছে।
মেক্সিকোর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে সুরক্ষাবাদী (protectionist) নীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে যা গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ও অর্থনৈতিক প্রবাহকে নতুনভাবে গঠন করতে পারে, তাছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোও বলেন এতে ভোক্তা দাম বাড়বে ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে; ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনায় বসার আহ্বান এসেছে যাতে রপ্তানিকাজে বড় ক্ষতি এড়ানো যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখা যায়, যদিও শুল্ক বৃদ্ধির পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে রক্ষাকবচ প্রদান এবং আমদানি প্রতিকূল করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, ভারতের রফতানি শিল্প এই নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সরকার ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এই পরিস্থিতিকে সামঞ্জস্য করার জন্য কৌশল নির্ধারণের ওপর কাজ করছে।



