ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়া (X) পোস্টে বড় ভাষায় লিখেছেন, তারা গম্ভীরভাবে জানতে পেরেছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বেগম খালেদা জিয়া‑র (চেয়ারপারসন, Bangladesh Nationalist Party — বিএনপি) স্বাস্থ্যের খবর। মোদি জানিয়েছেন, “দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশী জনসেবায়” তার অবদান রয়েছে। তিনি তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন এবং যে কোনো ধরনের প্রয়োজনে ভারত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

2 Dec 2025 | Pic: Collected
গত ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকা‑র এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকা খালেদা জিয়া ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের সমস্যায় পড়েছেন; বিশেষজ্ঞরা বারবার জানিয়ে দিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা এখন অত্যন্ত জটিল।
মোদির এই মানবিক সাড়া, বিশ্ব রাজনীতিতে, বিশেষ করে বাংলাদেশ‑ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে, এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ইতিহাসে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে সম্পর্ক নানা দফায় জটিল হলেও, এমন সময়ে ‘সহানুভূতি’ দেখানো — তা কেবল এক ব্যক্তিগত নয়, কূটনৈতিক ও মানবিকও।
এদিকে, বিএনপি অফিসিয়ালভাবে মোদির প্রতিক্রিয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, “মোদির ইতিবাচক মনোভাবে আমরা ধন্য” এবং উল্লেখ করেছে যে, পলিটিক্যাল পার্থক্য ভুল করে মানুষিক মানবিকতার দিক অন্যতম।
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংসদ, ধর্মীয় সংগঠন, সাধারণ নাগরিক — সবাই দোয়া ও মোনাজাত করছে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্যের জন্য। কিছু জেলা‑থেকে উদ্যোগে দোয়া মাহফিলও আয়োজন করা হয়েছে।
যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা, উত্তেজনা, পারস্পরিক মতবিরোধ — সবই রয়েছে, সেখানে এমন মানবিক মনোভাব এক শান্তির বার্তা বয়ে আনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনে যদি খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং ভারত তার জন্য সহায়তা বা চিকিৎসা‑সহযোগিতার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা যায় — তাহলে সেটা বাংলাদেশ‑ভারতের মধ্যে নতুন আস্থা, নতুন কূটনৈতিক সহ‑অভিজ্ঞতার সূচনা হতে পারে।
এই মুহূর্তে, দেশবাসী, রাজনৈতিক নেতারা এবং বন্ধু‑শত্রু নির্বিশেষে — সবাই খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায়। উনি যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন, এই মানুষিক ও রাজনৈতিক ভরসা এখন সবার।




