রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে খুব শিগগিরই ভারত সফরে যাচ্ছেন এবং এ সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর পুতিনের এই সফর ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী এ সফরের প্রধান এজেন্ডায় রয়েছে সামরিক সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময় এবং দুই দেশের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকে আরও শক্তিশালী করা।
4 Dec 2025 | Pic: Collected
ভারতের জন্য রাশিয়া এখনও অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী দেশ এবং মস্কোর সঙ্গে দিল্লির দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহ, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য জয়েন্ট প্রোডাকশন প্রকল্প, জাহাজ নির্মাণ, হেলিকপ্টার ম্যানুফ্যাকচারিং এবং অস্ত্র আধুনিকায়নে রাশিয়ার সহায়তা—এসব বিষয় পুতিন-মোদি বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়িয়েছে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাশিয়া ভারতকে ডিসকাউন্ট মূল্যে তেল সরবরাহ করছে।
এ কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা ও নতুন পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য ঘাটতি নিয়েও দিল্লির উদ্বেগ রয়েছে কারণ ভারত রাশিয়া থেকে অনেক বেশি পণ্য আমদানি করলেও রাশিয়ায় ভারতীয় রপ্তানি তুলনামূলক কম। তাই ভারত রাশিয়ার বাজারে ওষুধ, কৃষিপণ্য, প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং অটোমোটিভ সেক্টরে আরও প্রবেশাধিকার চায়। পুতিনের সফরে এই বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর রোডম্যাপ নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, দিল্লি সেই প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানতে চাইবে। ভারত সবসময় শান্তি ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং যুদ্ধের কারণে খাদ্য ও জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে সে বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারত-রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের অংশ হিসেবে স্পেস, নিউক্লিয়ার এনার্জি, শিক্ষা, সাইবার সিকিউরিটি, উভয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক বিনিময়েও নতুন চুক্তি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন-রাশিয়া ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের অবস্থান বিবেচনায় দিল্লি চাইছে যেন মস্কোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকে। এ কারণেই পুতিনের আসন্ন সফর দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে মোদি এবং পুতিন সরাসরি বৈঠকে বসবেন যেখানে দ্বিপাক্ষিক ছাড়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় আসবে। রাশিয়া-ভারত বার্ষিক সামিট দীর্ঘ সময় ধরে হয়ে আসছে এবং ২০২১ সালের পর এটাই হতে যাচ্ছে পরবর্তী সামিট। অতএব, পুতিনের ভারত সফর শুধু প্রথাগত কূটনৈতিক সফর নয়, বরং দুই দেশের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



