ভেনেজুয়েলার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক কঠোর ভাষার বিবৃতি দিয়েছে যখন মার্কিন বাহিনীর একটি রাজনৈতিক অগ্রাধিকার অভিযানে ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে; কারাকাসের দাবি, এই পদক্ষেপ “চুরি” বা আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা (international piracy) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে তেল ও জ্বালানি দখল করা, এবং এটি কোনো নিরাপত্তা বা আইন-কানুনের রক্ষার উদ্যোগ নয়। ভেনেজুয়েলা সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, “যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের জ্বালানি সম্পদ, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার জন্য আমাদের প্রতিরোধ শক্তি ন্যূনতম প্রয়োজন, ততক্ষণ আমরা আমাদের প্রতি এই ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করব”। এই তেলবাহী জাহাজটি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এই “জব্দের” কথা স্বীকার করেছেন, যা সামরিক ও কোস্ট গার্ড সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছিল।
11 Dec 2025 | Pic: Collected
যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বলা হয়েছে, ওই ট্যাংকারটি বছর বছর ধরে নিষিদ্ধ তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহার হচ্ছিল এবং এতে ভেনেজুয়েলা ও ইরানের জ্বালানি ছিল যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে; ঠিক এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এটিকে আটক করেছে বলে তারা দাবী করছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল Pam Bondi সরবরাহকৃত ভিডিওতে দেখানো হয়েছে কিভাবে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী এই অভিযান বাস্তবায়ন করেছে। বিশ্ব বাণিজ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেলের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার সরকার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ একেবারেই বৈধতার বাইরে, এটি আমাদের তেল উপকরণের ওপর অনৈতিক দখল এবং জলদস্যুতার মতো” যা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক নৌ আইন বিরুদ্ধ। তারা এই ঘটনার বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থায় অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বলেছে তারা তাদের সম্পদ রক্ষায় সর্বস্তরের উদ্যোগ নেবে। এই অপরাধের কারণ কেন্দ্র করে Caracas তীব্রভাবে ওয়াশিংটনকে দোষারোপ করেছে যে, এটি শুধু নিরাপত্তা বা নিষিদ্ধ তেলের বিরুদ্ধে কোনো লড়াই নয়, বরং লাতা আমেরিকার এক বড় শক্তির অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ভেনেজুয়েলার সম্পদ নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করার পরিকল্পিত কৌশল।
এই উত্তেজনা এমন এক সময়ে আসে যখন ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যে স্থিতিশীল নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েনপূর্ণ। এই উত্তেজনার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে তেলের মূল্য, রাজনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা আর ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর বাইরের হস্তক্ষেপ নিয়ে বিরোধ — আর এই ট্যাংকার জব্দ তারই অতি সাম্প্রতিক ও বিতর্কিত ঘটনা।
ভেনেজুয়েলার এই অভিযোগ, শুধু একটি দেশীয় প্রতিক্রিয়া নয় — আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যে, কোনো দেশ অন্য দেশের উপকূলে কোনো জাহাজ বা সম্পদ জব্দ করলে তা কি আন্তর্জাতিক নীতি ও আইনগতভাবে “আক্রমণ” বা “জলদস্যুতা” হিসেবে বিবেচিত হবে কি না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যেমন ইন্টারন্যাশনাল লগ অফ দ্য সি (UNCLOS) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক নৌ আইন অনুযায়ী, অন্য দেশের নিয়ন্ত্রণাধীন সমুদ্রের কাছে যুদ্ধজাহাজের অনুমতি ব্যতীত এমন অভিযান করা “সাম্প্রতিক ও অনন্য” এবং তা আইনি প্রশ্ন উত্থাপন করে।
এই সমুদ্র চলমান উত্তেজনা শুধু ভেনেজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ককেই প্রভাবিত করছে না তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক শক্তি রাজনীতিকেও প্রভাবিত করছে; কারণ ল্যাটিন আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ভেনেজুয়েলা বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান রাখে, এবং এই ধরনের উত্তেজনা বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।
ভেনেজুয়েলার একাধিক জাহাজও এখন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে, কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা vessels-গুলিও পরবর্তীতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়টিও ভেনেজুয়েলার জনসাধারণ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের উদ্বেগ তৈরি করেছে যে, ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ও সামরিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
সমগ্র পরিস্থিতি দেখলে বলা যায় এপ্রিল ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া মার্কিন চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং সামুদ্রিক অভিযান এর সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে এই তেলবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যেখানে ভেনেজুয়েলার দাবি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ‘জলদস্যু’ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আচরণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে এটি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন। এই দৃষ্টিকোণগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



