যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে আবারও এক বড় ধাক্কা দিয়েছে। ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে মার্কিন সরকার ভারতীয় আট নাগরিক এবং নয়টি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) এই ঘোষণা দেয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানি তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং পেট্রোকেমিক্যালের বাণিজ্যে যুক্ত ছিল। একই সঙ্গে ওএফএসি আরও ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং জাহাজকে কালোতালিকাভুক্ত করেছে, যেখানে চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

10 Oct 2025 | Pic: Collected
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুসারে, এই আটটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান হল মুম্বাই-ভিত্তিক সিজে শাহ অ্যান্ড কোং, কেমোভিক, মোডি কেম, পারিচেম রিসোর্সেস, ইন্ডিসল মার্কেটিং, হরেশ পেট্রোকেম, শিব টেক্সচেম এবং দিল্লি-ভিত্তিক বিকে সেলস কর্পোরেশন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো গত কয়েক বছর ধরে মিলিয়ন ডলারের ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল আমদানি করেছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভারতীয় নাগরিকরা হলেন কেমোভিকের পরিচালক পীযূষ মাগনলাল জাভিয়া, ইন্ডিসল মার্কেটিংয়ের পরিচালক নীতি উন্মেশ ভট্ট, এবং হরেশ পেট্রোকেমের পরিচালক কমলা কাসাত, কুণাল কাসাত ও পুনম কাসাত। এছাড়া আরও তিনজন ভারতীয়ও ওএফএসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ভারতের ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্য বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ভারতীয় সরকার ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এছাড়া, ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বিশ্লেষণ করছে। মার্কিন সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের কিছু শিল্পখাত এবং পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবসায়িক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই পদক্ষেপ ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলকেও প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ভারতকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমন্বয় বাড়াতে হতে পারে। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতি মনিটর করছে।




