যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি এমন প্রযুক্তি যার অধিকার এখনও অনেক কম দেশেই রয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের এশিয়া সফরের সময় আসে, যেখানে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট Lee Jae‑myung-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, “আমি তাঁদের অনুমোদন দিয়েছি পারমাণবিক সাবমেরিন বানানোর, কারণ তাদের পুরনো ডিজেল সাবমেরিনের চেয়েও এটি অনেক বেশি কার্যক্ষম হবে।”

30 Oct 2025 | Pic: Collected
এই ধরনের সাবমেরিনকে বলা হয় এমন জাহাজ যা দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকতে সক্ষম এবং যা সনাক্ত করা কঠিন। বিশেষ করে North Korea ও China-র কাছ থেকে উপ-মহাদেশীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এটি দিকনির্দেশক।
তবে বিষয়টি সহজ নয়। পারমাণবিক সাবমেরিন এবং তার সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি যেমন–নিউক্লিয়ার ফুয়েল রি-প্রসেসিং ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ–সেসব বিষয় অনেক দেশই সীমাবদ্ধভাবে পরিচালনা করে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি এই প্রযুক্তি কোথা থেকে আসবে বা কোরিয়া নিজে সব প্রযুক্তি তৈরি করবে কি না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র জোটকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। তবে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরমাণু নিষ্প্রসারণ চুক্তি (NPT) এবং স্যুইচ যোগ্য প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়াতে পারে।
উদ্বেগও আছে—কারণ পারমাণবিক সাবমেরিন প্রযুক্তি শুধুই সাবমেরিন বানানোর জন্য নয়; এতে গোপন অভিযান, দীর্ঘস্থায়ী ডুবোর সক্ষমতা ও সমুদ্রসীমায় আধিপত্য তৈরির ক্ষমতা থাকে। অনেকে ভাবছেন, এটি কেবল প্রতিরক্ষা নয় শক্তির প্রতীকও।
এই সিদ্ধান্ত তুলে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি জোট এখন আরও গভীর হচ্ছে। একই সঙ্গে, এটি আশঙ্কা বাড়াচ্ছে যে, পারমাণবিক যুদ্ধজাহাজ-প্রযুক্তির বণ্টন নতুন বন্ধন ও প্রতিযোগিতার কারণ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, এই অনুমোদন শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা দৃঢ়তা বাড়াবে না, বরং এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে পরমাণু সশস্ত্র স্থিতিশীলতা-প্রেক্ষিতেও বড় প্রভাব ফেলবে। কবে এবং কীভাবে এই সাবমেরিন নির্মিত হবে তা এখনই স্পষ্ট নয়—তবে গোটা বিশ্ব এই নতুন চুক্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছে।



