গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর ২০২৫) ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ভেনেজুয়েলা–র প্রতি যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে, কারণ তারা দাবি করছে, “ভেনেজুয়েলার মাদক চোরাকারবারিরা” যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার করছে, বিশেষ করে ফেনটানিল — যা বিগত সময়ে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু বা মৃত্যু‑ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, শুধু জাহাজ নয়, তারা স্থলপথেও হামলা শুরু করবে, কারণ “এই মাদকচক্র ও তাদের নেটওয়ার্ক কোথায় লুকিয়ে আছে, আমরা জানি।”
3 Dec 2025 | Pic: Collected
এই ঘোষণার সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই কার্বিবীয় ও সমুদ্রপথ ধরে সন্দেহভাজন মাদক‑নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে, এবং কিছু নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও যুদ্ধজাহাজ ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার ও সমর্থকরা এই হুমকি ও সংঘর্ষকে “চরম আগ্রাসন ও দখল প্রচেষ্টা” হিসেবে দেখছেন।তারা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশটির সার্বভৌমত্ব, সামাজিক শান্তি ও মানুষের জীবনকে বিপদে ফেলতে পারে। ইতিমধ্যেই কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর মানুষ সড়কে নেমেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে।
এ আন্তর্জাতিক উত্তেজনায়, বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সংঘর্ষ শুধু দুই দেশের মধ্যকার নয় — এটি গোটা ল্যাটিন আমেরিকা ও বিশ্বের জ্বালানি, মাদক চক্র, শরণার্থী সংকট, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে যুক্ত। কারণ ভেনেজুয়েলা বিশ্বের তেলসমৃদ্ধ দেশ, এবং মাদক‑চোরাচালানের অভিযোগে তার ওপর এ ধরনের হস্তক্ষেপ হলে, তার প্রভাব শুধু দেশ নয়, অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্যের ওপর পড়বে।
এই সীমান্তা ও হুমকির মধ্যে, এখন প্রশ্ন হলো — ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই স্থল‑মহড়া বা বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাবে? এবং এমন হলে, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার, রপ্তানি-রপ্তানির ন্যায্যতা, শরণার্থী ও অভিবাসীদের অধিকার, এবং গ্লোবাল নিরাপত্তা — এসব বিষয় কেমন প্রভাব পাবে?
সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র–র মধ্যকার উত্তেজনা এখন শুধু কূটনৈতিক নয়; এটি এক সম্ভাব্য সংঘাত, মানুষ ও সামুদ্রিক অঞ্চলের ভবিষ্যত, এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ইঙ্গিত।



