ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন রক্তাক্ত ও স্তব্ধ। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালগুলোতে চলছে জরুরি চিকিৎসা। এই ঘটনায় গোটা দেশে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে। ঠিক এমন সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের ভুটান সফরে রওনা হয়েছেন, যা নিয়ে বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির মুখপাত্ররা অভিযোগ তুলেছেন, দেশের রাজধানী রক্তে ভাসছে, অথচ প্রধানমন্ত্রী বিদেশে সফরে — এটি নৈতিকতার চরম অবক্ষয়।

12 Nov 2025 | Pic: Collected
আম আদমি পার্টির মুখপাত্র সৌরভ ভারদ্বাজ স্মরণ করিয়ে দেন, মোদি নিজেই একসময় বলেছিলেন “ভারতে কোনো জঙ্গি হামলা হলে তা যুদ্ধ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।” তাহলে এখন এই ভয়াবহ হামলার পর প্রধানমন্ত্রী বিদেশে কেন? কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দিল্লির মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে এমন হামলার দায়ভার কেন্দ্রীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরই নিতে হবে। তাদের দাবি, অমিত শাহকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ, এনআইএ, এবং স্পেশাল সেল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলার সঙ্গে পাকিস্তানঘেঁষা জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) যোগ পাওয়া গেছে।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সুনহেরি মসজিদের পার্কিং লটে তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সাদা গাড়ি থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যে দুইজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে এবং তারা একটি বৃহত্তর সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিয়েছে।
নাগরিকদের প্রশ্ন, এত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও রাজধানীর কেন্দ্রে এই হামলা কীভাবে সম্ভব হলো? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিই এই বিপর্যয়ের বড় কারণ।প্রধানমন্ত্রী মোদি ভুটান থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “আমি ভারী মন নিয়ে এখানে এসেছি। দিল্লির ঘটনায় গোটা দেশ শোকাহত। আমি তদন্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে সারারাত যোগাযোগ রেখেছি, ষড়যন্ত্রকারীরা কোনোভাবেই রেহাই পাবে না।” তবে বিরোধীদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া দেরিতে এসেছে এবং তা জনগণের ক্ষোভ প্রশমনে যথেষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির এই বিস্ফোরণ কেবল গোয়েন্দা ব্যর্থতা নয়, সরকারের দায়িত্ববোধ ও জনসংযোগ ব্যবস্থারও বড়সড় পরীক্ষা। রাজধানী রক্তাক্ত, জনগণ আতঙ্কিত, আর সেই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী বিদেশে—এই দৃশ্য এখন ভারতে রাজনৈতিক ও নৈতিক নেতৃত্বের নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।




