বুধবার ভারতের রাষ্ট্রপতি Droupadi Murmu হরিয়ানা রাজ্যের Ambala Air Force Station থেকে Dassault Rafale যুদ্ধবিমানে উড়াল নির্বাচন করেন। এটি শুধু এক বিমানে ভ্রমণ নয়, বরং ভারতের সামরিক সক্ষমতার প্রতীকী প্রদর্শন বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রাফালে বিমানটি ফরাসি প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি অত্যাধুনিক মাল্টি-রোল যোদ্ধা বিমান, যা ভারতের বিমানবাহিনীতে ২০২০ থেকে ব্যবহার হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির এই উড়াল প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী হয় এবং আনুমানিক ১৫,০০০ ফুট উচ্চতায় বিমাটি উল্লম্ফন করে।

30 Oct 2025 | Pic: Collected
রাষ্ট্রপতি নিজে এই অভিজ্ঞতাকে “অবিস্মরণীয়” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই উড়ালে দাঁড়িয়ে তিনি ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও দৃঢ় বিশ্বাস অনুভব করেছেন।
তবে শুধু বিমানের উড়ালই নয় — এই ঘটনার রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনীতিতে, বিমানবাহিনীর প্রতিযোগিতা এবং সামরিক-প্রদর্শন একাধিক বার প্রতিবেশী দেশের চোখেও এক শক্তির মাপকাঠি। তাই Murmu-র রাফালে উড়ালকে বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে ভারতীয় ক্ষমতার প্রকাশ হিসেবে।
এই ধরনের উড়াল দেশ-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বার্তা পাঠাতে পারে। বিশেষ করে বিকল্প শক্তি হিসেবে যুদ্ধবিমান প্রযুক্তি, বিমানবাহিনী প্রস্তুতি এবং স্ট্র্যাটেজিক সচেতনতা ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর নজরের মধ্যেই রয়েছে।
রাফালে-এর এই প্রদর্শনে ভারতের বিমানবাহিনী-এর বাহিনী সংখ্যায় বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় শক্তিশালী ভূমিকা নেওয়ার মনোভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবাহিনীর মহিলা পাইলটও উড়ানে অংশ নিয়েছেন, যা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শ্রেণিতে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হচ্ছে—এর একটি দৃষ্টান্ত।
তবে এই ধরনের প্রদর্শন শুধু ইতিবাচক নয়—কিছু দেশ এই ধরনের শক্তি প্রদর্শন থেকে ‘অসুবিধাজনক বার্তা’ নেবার সম্ভাবনা দেখছে। প্রতিদ্বন্দ্বী বা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর কাছে এটি হতে পারে ‘শক্তি বাড়ানোর সংকেত’ এবং নিরাপত্তা-চিন্তার উৎস। ফলে এই উড়াল একদিকে গর্বের মুহূর্ত, অন্যদিকে আঞ্চলিক ভারসাম্যে নতুন প্রশ্নও উত্থাপন করেছে।
উপসংহারে, রাষ্ট্রপতির রাফালে উড়াল ভারতের জন্য শুধু এক গর্বের অধ্যায় নয়—এটি বাইরের দেশগুলোর নজরে একটি শক্তি-প্রতিফলন, ও দেশের অভ্যন্তরীণভাবে নিজ নিজ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আন্তর্জাতিক পরিবেশে এই ধরনের পদক্ষেপের সঙ্গে সামরিক সক্ষমতা, কূটনৈতিক সংকেত ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার সব মিলিয়ে একটি চিত্র সামনে আসছে।



