বিশ্বের মহাকাশ নিয়ে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, আর সেই প্রতিযোগিতার বড় অংশ হিসেবে রাশিয়া একটি অসাধারণ ও যুগান্তকারী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে — চাঁদে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার উদ্যোগ। আগামী এক দশকের মধ্যে অর্থাৎ **২০৩৬ সালের মধ্যে পৃথিবী’s একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ **চাঁদে একটি শক্তিশালী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাশিয়া। এই কেন্দ্র শুধু রুশদের নিজস্ব চন্দ্র অভিযানকে শক্তি দেবে না, বরং তারা সম্প্রতি রাশিয়া–চীনের যৌথ আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা স্টেশন-ও চালু করার লক্ষ্য রেখেছে, যেখানে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করবে।
25 Dec 2025 | Pic: Collected
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমস (Roscosmos) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা লাভোচকিন অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, এবং এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য যৌথভাবে কাজ করবে। রসকসমসের মতে, প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্র অন্বেষণ কর্মসূচিকে স্থায়ী শক্তি সরবরাহের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে এবং এটি একটি স্বয়ংক্রিয় বৈজ্ঞানিক চন্দ্র কেন্দ্র গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এটি দিয়ে রাশিয়া কেবল একটি শক্তি কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে তা নয়, বরং চাঁদে দীর্ঘ মেয়াদি গবেষণা ও বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাকেও বাস্তবে রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় রোভার, পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং চন্দ্র গবেষণার বিভিন্ন অবকাঠামো চালনা করার ওই শক্তিই সরবরাহ করা হবে।
রসকসমস যদিও স্পষ্টভাবে বলেনি যে কেন্দ্রটি ‘পারমাণবিক’ শক্তিচালিত হবে কিনা, তারপরও এই প্রকল্পের সঙ্গে রাশিয়ান পারমাণবিক কর্পোরেশন রোসাটম (Rosatom) ও কুরচাটভ ইনস্টিটিউট-র মতো দেশের শীর্ষ পারমাণবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকার কারণে এটি বোঝা যায় যে ভবিষ্যতের এই শক্তি কেন্দ্রটি পারমাণবিক ভিত্তিকই হবে।
১৯৬১ সালে সোভিয়েত মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন (Yuri Gagarin) প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশে পাড়ি জমানোর পর থেকে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) মহাকাশ গবেষণায় একসময় শীর্ষে ছিল। কিন্তু গত কয়েক দশকে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশেষ করে চীনের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে, বিশেষ করে ২০২৩ সালের আগস্টে ‘লুনা-২৫’ মিশনের ব্যর্থতা এই ক্ষেত্রকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া নতুন করে মহাকাশে নিজের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৃহত্তর ও চ্যালেঞ্জিং উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এর মধ্যে অন্যতম হলো চাঁদে স্থায়ী শক্তি কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প।
রসকসমস জানিয়েছে, চাঁদে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো:
- রাশিয়ার নিজস্ব চন্দ্র অভিযানকে শক্তি সরবরাহ: রোভার, পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থায়িত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা।
- রাশিয়া–চীনের যৌথ আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা স্টেশন চালনা: দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রমে শক্তি সাপোর্ট প্রদান।
- এককালীন মিশন থেকে স্থায়ী গবেষণা পর্যায়ে উন্নয়ন: শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক নয়, বরং একটি স্থায়ী বৈজ্ঞানিক পরিচালনায় রূপান্তর।
রসকসমসের প্রধান দিমিত্রি বাকানভ বলেছেন, এই প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্র অনুসন্ধান কর্মসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং এটি মানবজাতির মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎকে নতুন দিক নির্দেশ করবে।
চাঁদকে কেন্দ্র করে মহাকাশে প্রতিযোগিতা এখন শুধু রাশিয়া নয়, বিশ্বব্যাপী প্রধান মহাশক্তিগুলোর মধ্যে চলছে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের নাসা ঘোষণা করেছে যে তারা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা নিচ্ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্র বিবেচিত মানব অভিযানের শক্তি চাহিদা পূরণ করবে।



