সদূর রাশিয়ার ৪০ বছর বয়সী নারী নিনা কুতিনা (প্রয়: “মোহি”) ও তার দুই মেয়ে—৬ বছর বয়সী প্রেমা ও ৪ বছর বয়সী আমা—সুবধিতে ভারতের কর্ণাটকের গোকর্ণের রামতীর্থ পাহাড়ে এক প্রত্যন্ত গুহায় আট বছর ধরে গোপনে বাস করছিলেন, যা সম্প্রতি পুলিশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ২০১৬ সালের অক্টোবরে বার ব্যবসায় ভিসায় ভারতে আসেন, কিন্তু সেই ভিসা ২০১৭ সালের এপ্রিলে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়; তারপর গোয়া থেকে গোকর্ণে আসেন গোপনে, মেডিটেশন ও ধর্মাচরণে নামেন।

14 July 2025 | Pic: Collected
ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর পরই তিনি এবং তার সন্তানরা বনাঞ্চলের গভীরে গুহায় আশ্রয় নেন এবং প্রায় দুই মাস গোপন জীবনে কাটান। পুলিশ টহলে গুহার সামনেই সাড়ি ও প্লাস্টিক আবরণের নষ্ট কাপড়, বনেরই আবাসন ইঙ্গিত করে। প্রথমে বিয়ে বা পিতার পরিচয় সম্পর্কে কিছু বলেননি কুতিনা, তবে পরে মৃদু মনস্তাত্ত্বিক বিপন্নতা ও একাকীত্বের কারণে বনজীবন বেছে নেন বলে জানা গেছে।
গুহার ভেতরে তিনি একটি রুদ্র মূর্তি, রুশ ভাষার বই ও হিন্দু দেবতার ছবি রাখতেন; প্রতিদিন ধ্যান, যোগ, গান, আঁকা ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা চলতো তাদের জীবনে। খাওয়া-দাওয়া ছিল সীমিত—ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও সামান্য প্রসাধনী; ঘুমাতেন প্লাস্টিক শিটে, আলো হিসেবে ব্যবহার করতেন প্রাকৃতিক আলো; বর্ষাকালেও সাধারণ পোশাকেই থাকতেন—এভাবে বন-প্রকৃতির সঙ্গে সংযুক্ত জীবন কাটে। তিনি বলেন, “সাপ আমাদের বন্ধু, যদি আমরা ক্ষতি না করি, তারা আমাদের ক্ষতি করে না।”
পরিবার উদ্ধার করা হয় ৯ জুলাই, পরবর্তীতে তাদের বেনকিকডলার আশ্রমে স্থানান্তর এবং শিশুদের নিরাপত্তার জন্য কারওমেয়র ভদ্রতায় ওয়ার্কারসি সেন্টারে রাখা হয়েছে ([Gulf News])। পুলিশ এবং বন বিভাগের উদ্যোগে প্রাথমিকভাবে উদ্ধার ও সহায়তা করা হলেও তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের বিতাড়নের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে; দম্পতুনীদের ভারতীয় রূপে থাকা নিয়মবিপর্যয় ও নিরাপদ-খাদ্য সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কুতিনার পরিবারকে Foreigners Regional Registration Office (FRRO), Bengaluru-এ হাজির করা হবে এবং তাঁরা রাশিয়া ফেরত পাঠাতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা একটি আইনি ও মানবিক যাত্রার চূড়ান্ত পর্ব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি অদ্ভুত আত্মস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ব্যক্তি ও প্রকৃতি, নির্জনতা ও বিশ্বাসের মিলনমেলা—যা স্থানীয় সমাজ ও আইন সংশ্লিষ্টদের মনে গভীর ছাপ রেখেছে।




