রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা Rosatom এবং ভারতের পারমাণবিক বিভাগ সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা শুধু স্থলভিত্তিক বড় পারমাণবিক কেন্দ্র নয় বরং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (floating nuclear power plant) গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে যা সমুদ্রপথ বা উপকূলবর্তী এলাকায় নিয়োজিত থাকবে। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার তৈরি ভাসমান কেন্দ্র Akademik Lomonosov–র মতো মডেল পৃথিবীতে কাজ করছে এবং Rosatom–র উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বলেছেন, এই প্রযুক্তি ভারতের জন্য “কম শক্তির, নমনীয়, দ্রুত স্থাপনযোগ্য এবং উপকূলবর্তী বা দ্বীপাঞ্চলসহ বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে” বিশেষভাবে উপযোগী হতে পারে। নতুন আলোচনায় বলা হয়েছে, রাশিয়া ও ভারত এক সঙ্গে বড় রিয়েক্টরচালিত কেন্দ্রের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি ক্ষমতার কেন্দ্র (Small Modular Reactors — SMRs) এবং ভাসমান কেন্দ্র গঠনের দিকেও কাজ করতে চাইছে।
5 Dec 2025 | Pic: Collected
বর্তমানে ভারতে স্থাপিত এবং নির্মাণাধীন বৃহত্তর পারমাণবিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে Kudankulam Nuclear Power Plant (KNPP), যেখানে দুইটি রিয়েক্টর ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে এবং আরও চারটি ইউনিট নির্মাণাধীন। যদিও এই স্থলভিত্তিক প্রকল্পগুলি রয়েছে, তবে ভাসমান কেন্দ্র নিয়ে আলোচনার পেছনে রয়েছে বিশেষ সুবিধার আশা । যেমন — ভূ-মাটি ছাড়াই বা কম মাটিতে, উপকূলবর্তী অঞ্চলে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভূমিকম্প-ঝুঁকি কম, এবং উপকূলীয় দ্বীপ ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় সহজ পৌঁছানো।
রাশিয়ার প্রস্তাবিত এই ভাসমান কেন্দ্রগুলোর ক্ষমতা সাধারণত বড় পরমাণু চুল্লির চেয়ে কম — প্রায় ৫০–১০০ মেগাওয়াট বা সামঞ্জস্যপূর্ণ SMR ভিত্তিক। তবে কম ক্ষমতার হলেও এগুলোর মাধ্যমে দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং পরিবাহিতযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব, যা বিশেষত উপকূলবর্তী, দ্বীপ বা দূরপ্রান্তীয় অঞ্চলে এক নতুন বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের বিশাল জনসংখ্যা, দ্রুত বর্ধনশীল শহর, উপকূলীয় নগরায়ন, দ্বীপ অঞ্চল — এসবকে ধ্যান রেখে রাশিয়া এই প্রস্তাব দিয়েছে।
একই সময়ে, ভারত-রাশিয়া যৌথভাবে বৃহৎ চুল্লিসহ নতুন স্থলভিত্তিক পারমাণবিক কেন্দ্র গঠনের পরিকল্পনাও করছে। উদাহরণস্বরূপ, রুশ ডিজাইনের VVER-1200 চুল্লি ভিত্তিক নতুন রিয়েক্টর নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে, যা দ্রুতগতিতে ভারতে ন্যূন-কার্বন শক্তি উত্তাপ করবে।
যদি এই ভাসমান কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়, তাহলে তা সাধারণ পারমাণবিক প্রকল্পের তুলনায় দ্রুত স্থাপন, কম ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রয়োজন, এবং ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হবে। তবে, এমন উদ্যোগের সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা, সঙ্গত জ্বালানি চক্র, আবর্জ্যা ব্যবস্থাপনা ও জল-পরিবেশের প্রভাব—সবকিছু বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় বা দ্বীপ অঞ্চলে, সুনামি বা সমুদ্র-উত্তালনের ঝুঁকি থাকলে অতিরিক্ত প্রস্তুতি ও সুরক্ষা আবশ্যক।
নতুন এই প্রস্তাব এবং আলোচনা যে দুই দেশের নিকট ভবিষ্যতের পারমাণবিক অংশীদারিত্বকে আরও সম্প্রসারিত করবে সে আশা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। যদিও এখনও অফিসিয়াল কোনো চুক্তি বা শুরু হয়নি, তবে Rosatom–র প্রস্তাব এবং ভারতীয় পক্ষের ইতিবাচক মনোভাব মিলিয়ে বলছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতে “ভাসমান + স্থলভিত্তিক” মিশ্র পারমাণবিক জ্বালানি নীতি দেখা যেতে পারে।



