দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউওন সুক-ইয়ল বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ (high treason) ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা দেশটির স্বাধীনতা ও সংবিধান রক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে বিরল ও গুরুতর একটি ঘটনা। বিশেষ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেছেন যে, গত বছরের অক্টোবরে উত্তর কোরিয়ার দিকে গুপ্তভাবে ড্রোন পাঠানোর মাধ্যমে ইউওন একটি সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন, যা তাঁদের মতে উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া জন্মানোর পরিপন্থী মাইলস্টোন হয়ে উঠতে পারত এবং তা থেকে Martial Law (সৈন্য-শাসন) ঘোষণা করার প্রেক্ষাপট তৈরি হতো।
10 Nov 2025 | Pic: Collected
ইউওন ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সাংবিধানিক আদালতের সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধানে এই ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মসংস্থান ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর ভিত্তিতে গৃহীত হয়। প্রসিকিউটরদের দাবী, ইউওনের অধীন মিডিয়া, সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগ এক পরিকল্পনা করেছিল যাতে উত্তর কোরিয়াকে উত্তেজিত করে দলে সেনা সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে, ইউওন ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা নিজেদের মিশন-ডকুমেন্ট, “ড্রোন”, “শলজিকাল স্ট্রাইক” ও “টার্গেট পাইয়ংযাং”-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।
এই মামলায় সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন ও গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা ইউ ইন-হিউংকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা অভিযোগে যুক্ত হয়েছে যে তারা ইউওনের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে ছিল এবং সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মাঝে নীতি পরিবর্তনের জন্য ভূমিকা রেখেছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলায় সীমাবদ্ধ নেই—এটি দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক সংস্কার, সংবিধান রক্ষা এবং সেনা-রাজনৈতিক চালিকাগুলোর প্রতি সামাজিক ও আইনি নজরদারির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন দেশদ্রোহ ও বিদ্রোহ সংক্রান্ত অপরাধগুলোর মামলায় ভয় ভয়ানক সাজা থাকতে পারে (জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড), তেমনই অন্যদিকে এই মামলা আগামী রাজনৈতিক হালচালের দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রেক্ষাপটে, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা-নীতির স্বাধীনতা, এবং প্রেসিডেন্টদের ক্ষমতার সীমা-সব কিছু নতুন আলোচনায় এসেছে। সাধারণ নাগরিকদের মনে রয়েছে—যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এমন পরিকল্পনা সৃষ্টি হয়, তাহলে সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধ্বংস হতে পারে। আর তাই এই মামলার পরিণতি শুধু কোরিয়ার নয়, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সুশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকেও নজরকাড়া হবে।
সারাংশে বলা যায়, ইউওনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ বাংলাদেশের মত সংবিধানপ্রধান রাষ্ট্রেও গুরুত্ব বহন করে—যেখানে শাসক ও সেনা-সম্পৃক্ত কার্যকলাপ স্বচ্ছতা-হীন হলে সংবিধান ও সাধারণ জনগণের অধিকার বিপন্ন হয়। যুক্ত আসামিদের বিচার প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে; সামনের দিনগুলোতে এর ভাগ্য ও রাজনৈতিক ফলাফল অপেক্ষার বিষয়।



