অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বিরল এক দৃশ্য দেখা গেল সম্প্রতি—কুইন্সল্যান্ড থেকে নবনির্বাচিত সিনেটর করিন মুলহল্যান্ড তাঁর আট মাস বয়সী শিশুপুত্র অগিকে কোলে নিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে দিলেন আবেগময় ও অনুপ্রেরণাদায়ক ভাষণ। রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দৃশ্য যেমন বিরল, তেমনি এটি মা-বাবা, বিশেষত কর্মজীবী মায়েদের জন্য এক প্রেরণার বার্তা হয়ে উঠেছে।

31 July 2025 | Pic: Collected
লেবার পার্টির হয়ে সিনেটর নির্বাচিত হওয়া করিন মুলহল্যান্ড বলেন, “আমার সন্তান কোনো প্রতীক নয়, সে আমার এই পথচলার একটি জীবন্ত স্মারক।” পার্লামেন্টে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি কোলের শিশুকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলেন এবং আশেপাশের সংসদ সদস্যদের কাছ থেকেও পেয়েছেন আন্তরিক সহায়তা ও হাসিমুখে সাড়া। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
করিনের মতে, সংসদ এমন একটি জায়গা হওয়া উচিত যেখানে ব্যক্তি জীবনের বাস্তবতা লুকানো নয় বরং তুলে ধরা যায়। তিনি বলেন, “মা-বাবারা সংসদে থাকার যেমন অধিকার রাখেন, তেমনি শিশু লালন-পালনের বাস্তবতাও আমাদের নীতিনির্ধারণে জায়গা পেতে হবে।”
তিনি আরও জানান, সন্তান জন্মের মাত্র তিন মাস পর থেকেই তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন এবং শিশুকে নিয়েই জনসংযোগ করেছেন। তার মতে, একজন মা হিসেবে তিনি যেমন কর্মজীবন চালিয়ে যাচ্ছেন, তেমনি মাতৃত্বকেও অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছেন—এটি নতুন প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।
করিনের এই উদ্যোগ সামাজিকভাবেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এধরনের উদ্যোগ সমাজে মা-বাবা এবং বিশেষ করে মায়েদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনবে। কর্মক্ষেত্রে শিশুর উপস্থিতি শুধু যে গ্রহণযোগ্য তা নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা।
অস্ট্রেলিয়ার নারী রাজনীতিতে এটি একটি নতুন অধ্যায় বলেও বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন দেশে নারীদের সংসদে বা অফিসে সন্তান নিয়ে আসার নজির থাকলেও, সংসদীয় ভাষণে সরাসরি সন্তানকে কোলে রেখে বক্তব্য দেয়ার ঘটনা খুবই বিরল।
এই ঘটনাটি এও দেখায়, নারী রাজনীতিকদের পেশাদারিত্ব ও মাতৃত্বের মাঝে কোনও দ্বন্দ্ব নেই বরং উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিয়ে তারা এগিয়ে যেতে পারেন—একইসাথে পরিবার ও জাতির জন্য কাজ করে যেতে পারেন।




