জাপানের শাসক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (LDP) আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৫ তার নেতাকে পরিবর্তন করার জন্য নেতৃত্বের ভোটগ্রহণ করছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা সংসদীয় ভোটের আগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারণ দলে জনসমর্থন অনেক কমে গেছে। এই নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী লড়ছেন এবং তাদের মধ্যে সানায়ে তাকাইচি অন্যতম প্রধান মুখ।যদি তাকাইচি LDP-র নেতা নির্বাচিত হন, তাহলে তিনি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন।

21 September 2025 | Pic: Collected
তাকাইচির রাজনৈতিক কেরিয়ার দীর্ঘ এবং রক্ষণশীল রাজনৈতিক মতাদর্শে দৃঢ় অবস্থানের জন্যে পরিচিত। তিনি আগে অনেক মন্ত্রী পদে কাজ করেছেন, যেমন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ও অভ্যন্তরীণ কাজের মন্ত্রী।তার নির্বাচনী পরিকল্পনায় রয়েছে আয়কর কমানো, ঘরে ঘরে নগদ অর্থ প্রদান ও সরকারের ঋণ–মার্গ (debt-to-GDP ratio) ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার প্রস্তাব।
তবে তাকাইচির ক্ষেত্রে কিছু সংশয় ও সমালোচনাও আছে। তার রক্ষণশীল নীতি ও ইতিহাস-বিহ্নিত মন্তব্যগুলো কিছু পার্শ্ববর্তী দেশকে উদ্বিগ্ন করেছে; বিশেষ করে যুদ্ধ ও সামরিক ইতিহাস, ন্যাস্ট্যকুনি মন্দির (Yasukuni Shrine)-ে তার ভ্রমণ ও মতামত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য LDP পার্লামেন্ট সদস্য ও সাধারণ পার্টি সদস্যরা ভোট দেবেন। যদি কোনো প্রার্থী প্রথম রাউন্ডে জয়ী না হন, তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ড হবে যেখানে শীর্ষ দুই জন প্রতিদ্বন্দ্বী লড়বেন। তাছাড়া নতুন নেতা নির্বাচনের পর পার্লামেন্টের অনুমোদন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।
এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু জাপানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই বড় পরিবর্তন আনবে না, বরং আঞ্চলিক কূটনীতি, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। জাপান দীর্ঘদিন নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে বলেই অনেক বিশেষজ্ঞ দেখছেন, যদি তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী হন তবে সেটি জাপানের জন্য এবং এশিয়ার জন্য একটি নতুন ইতিহাসের অধ্যায় হবে।




