সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে গত ০২ আগস্ট ২০২৫ রাজস্ববিরোধী কার্যাবলী ও মাদকদ্রব্যবাহী অপরাধে আট জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি সংস্থা Saudi Press Agency (SPA)-এর তথ্য অনুযায়ী—যাদের মধ্যে চার জন সৌমালি, তিন জন ইথিওপিয়ান, এবং একজন সৌদি নাগরিক রয়েছে। প্রথম সাতজনকে hashish পাচারের মামলায় এবং সৌদি নাগরিকটিকে তার মায়ের হত্যা মামলায় ফাঁসি দেয়া হয় ।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশটিতে মোট ২৩৫ জন কে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ১৫৪ জন (প্রায় ৬৫%) ড্রাগ সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত—বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক বলে Amnesty International এক প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই পরিস্থিতিকে “ভয়াবহ প্রবণতা” বলে বর্ণনা করেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মামলা ন্যায় অনুসারে সম্পাদিত হয়নি এবং প্রবাসীদের disproportionately শিকার হতে হয়েছে—মূলত মাদকবিরুদ্ধ মামলায়। তদুপরি, আইনগত প্রতিকার, কনস্যুলার সহায়তা ও ভাষান্তর পরিষেবার অভাবে তারা সামাজিকভাবে দূর্বল অবস্থায় পড়ে ছিল ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড “2023 সালে শুরু হওয়া ‘War on Drugs’ নীতির একটি কড়া অবতারণা”, যেখানে ২০২১–২০২২ এর মধ্যে ধার্য করা মর্টারিয়াম (drug executions স্থগিত) পর্ব শেষ হওয়ার পর execution সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। Например, ২০২২ সালে ১৯ জন, ২০২৩ সালে ২ জন, এবং ২০২৪ সালে অপরাধে প্রায় ৩৩৮ জন কে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ।
এ ঘটনায় Amnesty International হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এটি আন্তর্জাতিক আর মানবাধিকারের নীতিসমূহকে অগ্রাহ্য করছে—বিশেষ করে যখন drug-related offences (যে অপরাধ সিরিয়াস হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়) অধিকাংশের জীবনান্তরিত করছে।
সৌদি সরকার কিন্তু বলছে, এটি অপরাধ নিয়ন্ত্রিত ও সাধারণ জননিরাপত্তা রক্ষার অংশ, এবং সব পক্ষই যথাযথ আদালত ও আপিল প্রক্রিয়ার অধিকার পেয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
বিশ্লেষকরা এই প্রবণতাকে কেবলমাত্র দেশের আইন ব্যবস্থার অংশ মনে করছেন না, বরং এটিকে international image crisis-এর অংশ হিসেবে দেখছেন—যাতে রাজা মুঠোফোনে করা “Vision 2030” সংস্কারের মধ্যদিয়ে একটি লিবারাল ও প্রসারিত সৌদি রাজ্যের ছবি বিশ্বে প্রচার করা হচ্ছে। Execution escalation সেই রূপকথাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে ।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—সৌদিতে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে অপরাধে যাদের মধ্যে কমপক্ষে ৭৫% প্রবাসী এবং আফ্রিকা, মিশর, পাকিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন ইত্যাদি থেকে আসা শ্রমিকদের ভিতর সবচেয়ে বড় অনুপাত ।
এই নিয়মবিরোধী শাস্তির সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সমাজ। যুক্তরাজ্য, আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে দ্রুত তদন্ত ও মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার উন্নয়ন চেয়ে।



