স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গ্লোবাল ভলকানিজম প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ হাজার বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর ইথিওপিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরি তীব্রভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, এবং এতে সৃষ্ট ছাই-মেঘ প্রায় ১৪ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে গেছে যা ভেসে ভেসে ইয়েমেন, ওমান, ভারত ও পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের আকাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

25 Nov 2025 | Pic: Collected
টুলুজ ভলকানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজারি সেন্টার (VAC) এই তথ্য জানিয়েছে, এবং স্থানীয়ভাবে রোববার (২৩ নভেম্বর) কয়েক ঘণ্টা ধরে আগ্ন্যুৎপাত চলেছে, যা আফার অঞ্চলের সেই আগ্নেয়গিরি থেকে শুরু করে লোহিত সাগরের দিকে ধীরে ধীরে ছাই ও ধোঁয়া ছড়িয়ে দিয়েছে।
এই আগ্নেয়গিরি উত্তর-পূর্ব ইথিওপিয়ার রিফট ভ্যালিতে অবস্থিত — যেখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয় এবং ভূতাত্ত্বিক গতিশীলতা সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি স্থানীয় ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ঘন সাদা ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠে গেছে, এবং তা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে দীর্ঘপথ ভ্রমণ করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ হলো, মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ সায়মন কর্ন ব্লুস্কাই স্পষ্ট রেখেছেন যে হোলোসিন যুগে, অর্থাৎ গত ১২ হাজার বছরে, এই আগ্নেয়গিরিতে এরকম কোনো অগ্ন্যুৎপাতের ইতিহাস নেই। ফলে এটি এক বিরল ও বিপুল উদ্গম, যা বৈজ্ঞানিক এবং ভৌগলিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব বহন করে।
সাউথ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছাই-এর কারণে ভারত ও পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের আবহাওয়া বিভাগগুলো সতর্কবার্তা জারি করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় ধরণের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে এই ধরনের অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব দৈনন্দিন জীবনে এবং পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।




