সৌদি আরবের রাজপরিবারের প্রিন্স আল–ওয়ালিদ বিন খালেদ বিন তালাল, যিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কোমা অবস্থায় ছিলেন এবং ‘ঘুমন্ত প্রিন্স’ নামে খ্যাত, বার্ধক্যপ্রাপ্ত হৃদয়ে মারা গেছেন। ২০০৫ সালের একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি গুরুতর মস্তিষ্কঘটিত আঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের শিকার হন। তখন তিনি লন্ডনের একটি মিলিটারি কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন । দুর্ঘটনার পর তাকে সৌদি আরবের কিং আব্দুলআজিজ মেডিকেল সিটিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে জীবন্ত রাখা হয় রোগশয্যায়, যন্ত্রগত শ্বাস–প্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটরে সংযোজিত করে ।

20 July 2025 | Pic: Collected
বছরের পর বছর বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যেমন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও সৌদি আরবের করুণ অনুসন্ধান করেছিলেন; তবে তিনি কখনই পূর্ণচেতনায় ফিরে আসতে পারেননি ২০১৫ সালে চিকিৎসকরা লাইফ–সাপোর্ট বন্ধ করতে পরামর্শ দিলেও, তার পিতা প্রিন্স খালেদ বিন তালাল তা প্রত্যাখ্যান করেন । সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিরন্তর আল্লাহর উপর বিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করে হাসপাতাল কক্ষে মোমবাতি ও নামাজের দৃশ্য শেয়ার করেছিলেন ।
ছোট আশার ঝলক
২০১৯ সালে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, কোমা অবস্থায় প্রিন্স আল–ওয়ালিদ আঙ্গুল নাড়াচাড়া করেছিলেন, যা আবারও নতুন কিছু প্রত্যাশার আলো ছড়ায় । তবে বাস্তবতা বোঝায় কখনই পূর্ণ ফেরা হয়নি তার।
অন্তিম সমবেদনা ও জানাজা
১৯ জুলাই, ২০২৫ তারিখে সৌদি প্রেসিডেন্সিয়াল কোর্ট তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তার বাবা এক মর্মবেদনা মিশ্রিত বার্তায় কুরআনের আয়াত তুলে ধরে মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেন জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ২০ জুলাই, শুক্রবার, রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে, Asr নামাজ পর ।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
‘Sleeping Prince’ মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার মানুষের সমবেদনার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে । এই ঘটনায় সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশে গভীর শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রিন্স আল–ওয়ালিদ বিন খালেদের দীর্ঘ ২০ বছরের কোমা জীবন হয়তো কখনো পূর্ণচেতনায় ফিরে আসেনি, তবে এটি ছিল ‘আস্থা ও পিতার অনড় ভালোবাসা’—যা হাজারো হৃদয়ে স্থান করেছে। তাঁর মৃত্যুর খবর শুধুমাত্র এক ব্যক্তি না হারানোর কথা বলে না, বরং ‘অজস্র প্রার্থনা’ ও ‘শক্তিশালী বিশ্বাস’—দুটি মানবিক শক্তির প্রতীক হিসেবে খ্যাত। সমগ্র সৌদি রাজপরিবারের অতল শোকের মাঝেও এই ছেলের স্মৃতি দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



