আলবেনিয়া সবচেয়ে আগে গেরিয়ে গেল প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দিকে আর সেই লক্ষ্যে একটি দারুণ এবং বিতর্কিত পদক্ষেপ করল – দেশটির প্রধানমন্ত্রী Edi Rama বার্লিন গ্লোবাল ডায়ালগে ঘোষণা করলেন, দেশের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক মন্ত্রী Diella “গর্ভবতী” হয়েছেন এবং তাঁর ৮৩ “শিশু” বা ডিজিটাল সহকারী রয়েছে। এই সহকারীরা মূলত দেশটির সংসদের প্রতিটি সদস্যকে সহযোগিতা করবে: মিটিংয়ের সময় যা বলা হলো, কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সব তথ্য তারা সংগ্রহ করবে—প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়। Diella একটি এআই সিস্টেম যা গত বছরের জানুয়ারিতে দেশটির অনলাইন সেবাপোর্টাল e-Albania প্ল্যাটফর্মে ভার্চুয়াল সহকারী হিসেবে চালু হয়েছিল, এবং সেপ্টেম্বরে ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে “Minister of State for Artificial Intelligence” পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

27 Oct 2025 | Pic: Collected
প্রধানমন্ত্রী এ রূপক দাবি করেছেন যে, ৮৩ জন সহকারী বা “শিশু” মন্ত্রীর মায়ের জ্ঞান ও নীতি ভাগ করে নেবে, সেই শিক্ষা ও তথ্য তৎক্ষণাৎ প্রতিটি সংসদের সদস্যের কাছে পৌঁছাবে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশটির সরকারি ক্রয়বিক্রয় বা পাবলিক টেন্ডারিং সিস্টেমকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করা। Diella-কে দেওয়া দায়িত্ব হলো ক্রয়ের সমস্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব কমে যায়। তবে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে সকলেই স্বাগত জানিয়ে নিয়েছেন না; বিরোধীদের মতে এটি প্রচারমূলক চাল এবং বাস্তবিক পরিবর্তনের চেয়ে চিত্র প্রদর্শনের উদ্দেশ্য বহন করে।
এই প্রোগ্রামটিকে শুধু প্রযুক্তি বা মেশিন বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না—এটি হচ্ছে সরকারের স্ব-দায়িত্ব নেওয়ার একটি নতুন ধাপ। Diella-র ভূমিকা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “আমি মানুষকে প্রতিস্থাপন করছি না, আমি তাদের সহায়তা করছি।” এমন কথাই বলেছে এআই মন্ত্রীর অবতার নিজেই সংসদে একটি বাণীতে। যদিও এখনও পুরোপুরি কার্যকর সিস্টেম নয়, কিন্তু বৃহত্তর পরিকল্পনায় ২০২৬ সালের মধ্যে এই পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এই পদক্ষেপ থেকে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর জন্যও বেশ শিক্ষা মিলছে — যেকোনো সরকার কিভাবে এআই-কে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে পারে, এবং একই সঙ্গে কি সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্ন তৈরি হতে পারে তা নিয়েও চিন্তা জরুরি। আলবেনিয়ার এই উদ্যোগ একটি ট্রায়াল বক্স হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রযুক্তিগত যন্ত্র এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মিশ্রণ ঘটছে। তাই এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এটি কতখানি সফল হবে? প্রযুক্তি কি মানুষের পরিবর্তে সিদ্ধান্ত দেবে না? তথ্য-নির্ভরতা বাড়লে কি গণতন্ত্রের স্বর কমে যাবে? এসব বিষয় এখন আলোচনায় উঠে এসেছে।
এই সার্বিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানবতর ও প্রযুক্তিনির্ভর দুই দিকই স্পষ্ট হয়েছে: একটি হলো জনগণের সেবার মান বাড়ানোর, অন্যটি হলো প্রযুক্তির সাথে রাজনৈতিক দায়িত্ব ও স্বচ্ছতা সৃষ্টির। আলবেনিয়া একটি ছোট দেশ, কিন্তু এই পদক্ষেপ বিশ্বকে দেখিয়েছে যে, সরকারি খাতে এআই-ভিত্তিক পরিবর্তন শুধু ভবিষ্যতের কথা নয়—আজও সম্ভব। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিশ্বাস গঠন করা, আইনগত ও নৈতিক কাঠামো তৈরি করা যাতে প্রযুক্তির বল প্রয়োগ মানুষের অধিকারের বিপরীতে না যায়।
উপসংহারে বলা যায়, আলবেনিয়ার এআই মন্ত্রী Diella-র ৮৩ “শিশু” নিয়ে ঘোষণা শুধু সংবাদ-হেডলাইন হওয়ার বিষয় নয়, এটি ডিজিটাল যুগে শাসন ব্যবস্থার নতুন দৃষ্টান্ত। আগামী দিনে দেখা যাবে, এটি শুধু প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেই থাকছে, না হয়ে বাস্তব রূপ নিয়েই জনগণের জীবন এবং শাসন ব্যবস্থায় বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসে।



