মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহ কিংবা আগামী সপ্তাহেই গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। বুধবার (৯ জুলাই) আফ্রিকার পাঁচটি দেশের নেতাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, গাজা যুদ্ধের বিষয়ে এখনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি, তবে বন্দি বিনিময় ও যুদ্ধবিরতির চুক্তি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে। আলোচনায় যুক্ত আছেন কাতারের একজন দূত, ইসরায়েলের মন্ত্রী রন ডারমার, এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

10 July 2025 | Pic: Collected
চলমান মধ্যস্থতার ফলে একটি ৬০ দিন মেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছে, যেখানে হামাস ১০ জন জীবিত ও ৯ জন মৃত বন্দি মুক্তি দেবে এবং এর বিনিময়ে গাজায় মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, সংঘর্ষবিরতি এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে, ইসরায়েল কিছু শর্তও রেখেছে, যার মধ্যে রয়েছে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং পশ্চিম গাজার কিছু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রাখা। ট্রাম্প বলেন, “গাজা যুদ্ধের মতো বিষয়ে কিছুই চূড়ান্ত নয়, তবে আমরা আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”
এদিকে আফ্রিকান নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আফ্রিকায় চীনা প্রভাব হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি অভিযোগ করেন, আফ্রিকার কিছু দেশে মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অবিচার’। তিনি জানান, ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের চিন্তা করছেন তিনি, যদিও আফ্রিকার পাঁচ দেশের ওপর তা প্রযোজ্য হবে না। গাজা যুদ্ধবিরতির আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিশর এবং ইসরায়েল সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।
রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা দোহায় গোপনে চলছে এবং সম্ভবত আগামী সপ্তাহেই একটি চুক্তি বাস্তবায়ন হতে পারে। যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে জর্জরিত গাজায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে অঞ্চলটিতে বহুদিন পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে সাধারণ মানুষ।



