মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে কিছু অভিবাসীদের ফেরত পাঠিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নেতারা ও আইন বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। জানা গেছে, আদালত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল যে, নির্ণয় প্রক্রিয়া (due-process) সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসীদের রেমুভাল বন্ধ থাকবে। তবুও, প্রশাসন ২০২৫ সালের মার্চে সমুদ্র পথে বা বিমান ফ্লাইটের মাধ্যমে অভিবাসীদের দেশে ফিরিয়ে দিয়েছে। আর একদফায়, ২০২৫ সালের মে মাসে এমনই ঘটনা ঘটে — ভিয়েতনামি ও বর্মিজ (among others) অভিবাসীদেরকে যুদ্ধপূর্ণ এবং অস্থির দেশ দক্ষিণ সুদানে পাঠানো হয়।

26 Nov 2025 | Pic: Collected
এক ফেডারেল বিচারক, Brian E. Murphy, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল “কোর্টের নির্দেশ & যুক্তরাষ্ট্রীয় আইন উভয়ই ভঙ্গ”।আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, ওই অভিবাসীদের আইনগতভাবে নিরাপত্তা বা ব্যপার বিবেচনায় নেয়ার আগে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের stitutional প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক আইন উভয়ের পরিপন্থী।
এই ঘটনা শুধু এক-দুই অভিবাসীর নয়: বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি “নজির” — অর্থাৎ প্রশাসন যদি কোনও “যুদ্ধ আইন (wartime power)” বা অভ্যন্তরীণ অভিবাসন আইনকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে আদালতের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করেও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এক ঘোষণা জারি করা হয়, যেখানে কয়েক হাজার অভিবাসীকে “অন্যায়াপরাধী গ্যাং” হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের তাড়ানোর প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে শুরু করা হয়।
এই রেমুভালের পরিপ্রেক্ষিতে, কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসীরা এমন দেশে পাঠানো হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণহত্যা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস আছে — যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আদালতের একাংশ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, যেসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে রেমুভাল হয়েছে, তাদের প্রতি “due process” ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আগে এমন কোনো রূপান্তর গ্রহণ করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
নাগরিক সমাজ, অভিবাসী অধিকার গোষ্ঠী এবং আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন — কি কারণে প্রশাসন কোর্ট অর্ডার অগ্রাহ্য করলো? কী যুক্তি ছিল? এবং ভবিষ্যতে এমন কাজের বিরুদ্ধে কি কোন স্থায়ী প্রতিকার রয়েছে? তারা বলছেন, এই ধরনের রেমুভাল যদি নিয়ম হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও বিচারপ্রক্রিয়া ভঙ্গ হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
অন্যদিকে, প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, তারা “দেশের নিরাপত্তা” এবং “গ্যাং-অপরাধরোধ”কে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল; এবং তারা বলেছে, কিছু রিমুভাল “আন্তর্জাতিক জলসীমা” বা “তৃতীয় দেশ রূপান্তর” হিসেবে গন্য হয়, তাই ওই কোর্টের নির্দেশ তার উপরে প্রযোজ্য নয়।
তবে বিচারবিভাগ ও আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ আইন এবং আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন অনুযায়ী, কোর্টের নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক। এই নিয়েই এখন সংশ্লিষ্ট আদালতে “কৃষ্ণবোধমূলক (criminal) contempt” মামলার প্রস্তুতি চলছে, যাতে রেসপন্সিবিল অফিসারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, বিচারিক স্বাধিকার এবং আইনগত ধারার প্রতি মানুষের বিশ্বাস — সবই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।




