ঢাকার স্থানীয় সময় ২০২৫ সালের এক সন্ধ্যায় মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেইট সেক্রেটারি, এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ এক ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী এই আলাপচারিতায় দুই নেতা বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, গণতন্ত্রে রূপান্তর প্রক্রিয়া, রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

Source: Online Report | 1 July 2025 | Pic: Collected
স্টেইট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস জানান, রুবিও ও ইউনূস এই আলাপে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার তাগিদও উঠে এসেছে।
রুবিও বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি এবং আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য এবং রেমিট্যান্সের শীর্ষ উৎস হিসেবে রয়েছে। শুল্ক বিষয়ে শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস জানিয়েছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ওয়াশিংটনে ডেপুটি স্টেইট সেক্রেটারি ল্যান্ডাউয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। এই বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া বাংলাদেশের অনুরোধে পারস্পরিক শুল্ক ব্যবস্থা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়েও সম্মতি দেয়া হয়, যা বাংলাদেশের বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, “আগামী বছরের শুরুতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান সংলাপ দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত সংস্কারে সহায়ক হবে।” তিনি আরো বলেন, “নির্বাচন কমিশন নিরলস পরিশ্রম করছে দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত করতে, যা পূর্ববর্তী সরকার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছিল। দেশের তরুণরাই এবার জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবে।”
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ধারাবাহিক উদার সহায়তা প্রদানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও প্রশংসা করেন অধ্যাপক ইউনূস। ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই মানবিক উদ্যোগের সবচেয়ে বড় দাতা হিসেবে কাজ করে আসছে। তিনি আরও বলেন, “রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উজ্জ্বল এবং বাংলাদেশ এ লক্ষ্যে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছে।”
ভূরাজনৈতিক ইস্যুতেও দুই নেতা মতবিনিময় করেছেন, যার মধ্যে ছিল স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা।
সবশেষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মার্কো রুবিওকে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান, যাতে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক উত্তর




