যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি আবারও হোয়াইট হাউসের নেতৃত্বের জন্য লড়াই করতে পারেন। শনিবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৬১ বছর বয়সি হ্যারিস বলেন, “আমি নিশ্চিত, আমাদের জীবদ্দশায় আমেরিকায় একজন নারী হোয়াইট হাউসের নেতৃত্ব দেবেন।” যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় সেই নারী তিনি নিজে হতে পারেন কি না, তখন তিনি হাসিমুখে বলেন, “সম্ভবত।” তবে হ্যারিস স্পষ্ট করেন যে, তিনি এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বলেন, “আমি সারাজীবন জনসেবায় নিয়োজিত থেকেছি। এটি আমার রক্তে মিশে আছে। সেবা করার অনেক পথ আছে, তবে ভবিষ্যতে আমি কী করব, তা এখনো ঠিক করিনি।”
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন এক বিতর্কে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান। এর পর হ্যারিস ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন। এই অভিজ্ঞতার পরও হ্যারিসের রাজনৈতিক ভক্ত ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৮ সালের নির্বাচনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।

26 Oct 2025 | Pic: Collected
আগামী ২০২৮ সালের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যেই মার্কিন গণমাধ্যমে জল্পনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট শিবিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কমলা হ্যারিস, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম, এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। অন্যদিকে, রিপাবলিকান শিবিরে সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
যদিও সংবিধান অনুযায়ী একজন প্রেসিডেন্ট দুই মেয়াদের বেশি নির্বাচিত হতে পারবেন না, তবুও ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি তৃতীয়বারের জন্যও লড়তে আগ্রহী। এর ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন হবে ইতিহাসে এক নয়া গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবির উভয়ের জন্যই নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, যদি কমলা হ্যারিস পুনরায় প্রার্থী হন, তাহলে তিনি হোয়াইট হাউসে নারী নেতৃত্বের ইতিহাস গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পাবেন।
হ্যারিসের সাক্ষাৎকারে আরও উঠে এসেছে, তিনি রাজনীতিতে শুধু নির্বাচিত হওয়াকে লক্ষ্য করেন না, বরং সমাজ ও মানুষের জন্য কার্যকর সেবা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “জনসেবা আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি সব সময় এমন কাজ করেছি যা মানুষের জীবনকে উন্নত করে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মার্কিন জনগণকে জানান, তার নেতৃত্ব শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনগণের কল্যাণ ও সেবা মূলক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হ্যারিসের এই মন্তব্য ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট শিবিরের জন্য আগাম সংকেত হিসেবে কাজ করবে। যেহেতু বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর হ্যারিসের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সক্ষমতা এবং জনমত সমর্থন রয়েছে, তাই তাকে প্রার্থী হিসেবে পুনরায় এগিয়ে রাখা হতে পারে। অন্যদিকে, রিপাবলিক শিবিরের শক্তিশালী প্রার্থীরা যেমন ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স, এবং মার্কো রুবিও থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হবে।
মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুধু একজন নারীকে হোয়াইট হাউসে নেওয়ার ইতিহাস নয়, বরং এটি হবে রাজনৈতিক কৌশল, জনগণের প্রত্যাশা এবং দলের ঐক্য পরীক্ষার মঞ্চ। কমলা হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থীতা এই নির্বাচনে বিশেষ প্রাধান্য পাবে, কারণ তিনি ইতিমধ্যেই ডেমোক্র্যাট দলের মধ্যে প্রভাবশালী এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পরিচিত।
এছাড়া হ্যারিসের প্রার্থিতা নিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির সিনিয়র নেতারা যেমন বাইডেন, বিল ক্লিনটন, হিলারি ক্লিনটন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা রাজনৈতিকভাবে হ্যারিসকে সহায়তা করার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হ্যারিসের পুনরাবির্ভাব ২০২৮ সালে নির্বাচনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের জন্য শক্তিশালী পজিশন তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের জন্ম দিচ্ছে। নারীর নেতৃত্বের ইতিহাস, দলের সমর্থন, জনসেবার অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক কৌশল—সব মিলে এই নির্বাচন হবে আগামী দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।



