যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (১২ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম “ট্রুথ সোশ্যালে” এক পোস্টে জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও অভিনেত্রী রোজি ও’ডনেলের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি লেখেন, “রোজি ও’ডনেল আমাদের মহান দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে না বলে আমি তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তিনি মানবতার জন্য হুমকি এবং তার উচিত চমৎকার দেশ আয়ারল্যান্ডে থাকা, যদি তারা তাকে চায়। ঈশ্বর আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন!”

13 July 2025 | Pic: Collected
এই হুমকির মধ্য দিয়ে দুই দশকের পুরনো ট্রাম্প-রোজি দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে টিভি টকশো “দ্য ভিউ”-তে রোজি ট্রাম্পকে ‘নৈতিকভাবে দেউলিয়া’ বলে আক্রমণ করেছিলেন, যার জবাবে ট্রাম্পও ব্যক্তিগত আক্রমণে যান। সেই থেকে দ্বন্দ্বটি ধারাবাহিকভাবে চলেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এমন হুমকি আইনত অসাংবিধানিক ও অকার্যকর। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং সে নাগরিকত্ব রাষ্ট্রপতির একক সিদ্ধান্তে বাতিল করা যায় না। রোজি ও’ডনেল নিউ ইয়র্কের কোম্যাকে জন্মগ্রহণ করেন, যা “ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেইজ (IMDb)” ও NBC নিউজ-এর রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ট্রাম্প এমন সময় এই বিতর্কিত মন্তব্য করলেন, যখন তার প্রশাসন “জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব” বাতিলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টায় রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সেই শিশুদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে চাইছে, যাদের বাবা-মা অভিবাসন আইনে অবৈধ। এই প্রস্তাব বর্তমানে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এটাই প্রথমবার নয়, যখন ট্রাম্প কোনো আলোচিত ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি এর আগে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জোরান মামদানির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদিও মামদানি ২০১৮ সালেই যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা যেমন আমান্ডা ফ্রস্ট (University of Virginia Law School) উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট কারও জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আইনগত ক্ষমতা রাখেন না। এ ব্যাপারে ১৯৬৭ সালের Afroyim v. Rusk মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব শুধুমাত্র সেই ব্যক্তির স্বেচ্ছায় পরিত্যাগের মাধ্যমেই বাতিল হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্পের পোস্টে আবারও দেখা যাচ্ছে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত শত্রুদের উদ্দেশ করে আইনের সীমা ছাড়িয়ে হুমকি দেওয়ার প্রবণতা। রোজি ও’ডনেলও পাল্টা এক পোস্টে কটাক্ষ করে বলেন, “আমি সেই কণ্ঠস্বর, যাকে আপনি ভয় পান—একজন স্পষ্টভাষী নারী, একজন সমকামী মা, যিনি সত্য বলেন। আমি আপনার ছিলাম না, হবও না। আমাকে আপনি থামাতে পারবেন না।”
রোজি বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে বসবাস করছেন এবং একাধিক বার ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।




