মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (২৭ জুন) হঠাৎ ঘোষণা দিয়েছেন, কানাডার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য আলোচনা ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ স্থগিত করা হয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর যে ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স (DST) আরোপ করেছে, তা “একটি জঘন্য ও প্রকাশ্য আক্রমণ”। তার দাবি, এই কর প্রযুক্তিখাতের উপর সরাসরি আঘাত, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, “Based on this egregious Tax, we are hereby terminating ALL discussions on Trade with Canada, effective immediately”

Source: Jugantor | 28 June 2025 | Pic: Collected
উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে জি–৭ সম্মেলনে ট্রাম্প এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ৩০ দিনের মধ্যে একটি নতুন অর্থনৈতিক চুক্তির জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এদিন সকালে এক বিবৃতিতে বলেন, চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে শুল্ক আলোচনা অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প সেই আশাবাদকে ধূলিসাৎ করে এই ঘোষণায় বাণিজ্য জগতকে বিস্মিত করেন। কানাডার আরোপিত DST মূলত গুগল, মেটা, অ্যামাজনসহ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ৩% কর আরোপ করে, যা কানাডার বাজারে তাদের আয়ের ভিত্তিতে হিসেব করা হয়।
আল জাজিরার এক বিশ্লেষণ বলছে, এই ট্যাক্স থেকে কানাডা বছরে আনুমানিক ২০০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জন করবে এবং এটি মূলত বড় টেক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ করেই প্রণয়ন করা হয়েছে । কানাডার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, “আমরা আলোচনা বন্ধ চাই না, তবে দেশের স্বার্থেই ন্যায্য কর কাঠামো বজায় রাখছি।” কানাডার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ফিরবে। তবে ট্রাম্প আগামী সপ্তাহেই কানাডার বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
এই ঘোষণার ফলে ওয়াল স্ট্রিটে প্রথমে কিছুটা ধাক্কা লাগলেও বাজার শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীল ছিল। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, যদি আলোচনার এ পথ দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকে, তবে কানাডা–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে USMCA চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই কৌশল মূলত ‘অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ’ তুলে ধরার অংশ। তবে দুই দেশের মধ্যকার এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়বে পুরো উত্তর আমেরিকার অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর।




