কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় গতকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে, প্রো-প্যালেস্তাইন আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ৭ মে বাটলার লাইব্রেরি দখলের ঘটনায় এবং গত অ্যালামনাই উইকেন্ডে ক্যাম্পাস দখলে প্রায় ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে । ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা ক্লেয়ার শিপম্যান জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের একাডেমিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার প্রতিবাদে, এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য ছিল ।

23 July 2025 | Pic: Collected
শাস্তির ধরন ও তার কারণ
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরোধী-সংবিধানিক বোর্ডের (University Judicial Board) নির্দেশে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা কেবল সাময়িক সাসপেনশন নয়; এর মধ্যে রয়েছে দুই থেকে তিন বছরের সাসপেনশন, বিদায় বা ডিগ্রি বাতিল এবং বহিষ্কার পর্যন্ত । অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশকে দুই বছরের জন্য পড়াশোনা থেকে বিরত রাখা হয়েছে ।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাব
মার্চে আনফি-সেমিটিজম, হিংসা ও ভাঙচুরের দায়ে কলাম্বিয়ার উপর ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সায়েন্স অনুদান বন্ধ করে দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন । তহবিল প্রত্যাহারের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। সেদিক থেকে ঘনিষ্ঠভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে, যাতে তহবিল ফিরিয়ে আনা যায়।
ছাত্র সংগঠন CUAD-এর প্রতিক্রিয়া
Columbia University Apartheid Divest (CUAD) নামে ছাত্র সংগঠন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। তারা বলছে, “আমরা নির্লজ্জ, কিন্তু আমাদের দাবি থাকা উচিত।” তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তকে “ফেডারেল প্রশাসনের সঙ্গে মিলিত হয়ে স্বাধীনতা নষ্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছে । তাদের দাবি, সাসপেন্ড হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে যেতে হলে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে ।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের বসন্তকালীন ফিলিস্তিন–ইসরায়েল সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই ধরনের প্রো-প্যালেস্টাইন আন্দোলন দেখা যায়। এর ফলে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করে, আইডিগ্রেস ও মুখোশ নিষেধ আরোপ করে পুলিশ-নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পাস নিরাপত্তা এবং শাস্তিমূলক বিধান কার্যকরায় উদ্যোগ নেয় ।




