মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র বিভাগের এক বৈঠক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাজার আহত ও গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য আসতব্য medical-humanitarian ভিসা (যা জীবন-রক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে ইস্যু করা হতো), তা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়ে, যখন গাজার স্বাস্থ্যপরিকাঠামো ধ্বংসের মুখে, অসংখ্য শিশুর প্রাণহানির সাথে লড়াই চলছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, “সম্পূর্ণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার জন্য” এই ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে । ঘটনার পেছনে এক গুরুত্বপূর্ণ হাত রয়েছে—ফার-রাইট প্রভাবশালী লরা লুমার, যিনি সামাজিক মাধ্যমে আহত গাজার শিশুদের’arrivée ভিডিও পশ্চাতে ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ দাবি করেন এবং এ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিওর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

18 August 2025 | Pic: Collected
উগ্র বিতর্ক সৃষ্টি করলে নিয়ন্ত্রণমূলক অনুরোধগুলো গ্রাহ্য হয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখনই প্রক্রিয়া পর্যালোচনার ঘোষণা দেয় Vanity FairAP News। এই স্থগিতাদেশে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে HEAL Palestine, Palestine Children’s Relief Fund (PCRF) এবং CAIR-এর মতো মানবিক সংগঠনগুলো, যারা গাজার আহত শিশুদের যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার জন্য এনেছিল; তাঁরা এই সিদ্ধান্তকে “নির্দয়” এবং “রাজনৈতিক প্রেরণে চালিত” হিসেবে পরাখ্যা করেছেন ।
এছাড়া, WHO ও UNICEF পূর্বেই সতর্ক জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধসে পড়েছে, হাসপাতালগুলো কার্যত বন্ধপ্রায়, এবং শিশুদের জীবন রক্ষার সর্বোচ্চ প্রয়াস না করলে আরও বিপর্যয় অপেক্ষা করছে । যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে মোট ৩৮০০টির বেশি B1/B2 ভিসা ইস্যুকৃত হয়েছে যা মূলত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ছিল, May মাসে এর মধ্যে ৬৪০টি ভিসা গাজার আবাসিকদের দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, UK সরকার গাজার শিশুদের চিকিৎসা প্রদানে দ্রুত একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ এক মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে । প্রতিক্রিয়ায়, অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এমন একটি ভিসা নীতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অ্যজেন্টদের প্রভাব কিভাবে এত সহজে সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে এবং কার্যকর মানবিক অপারেশন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র কি মানবিক দায়িত্ব থেকে সরে আসছে?
সাধারণত HEAL Palestine এর মতো সংগ্রহগুলোই নিশ্চিত করে যে ভিসাপ্রাপ্ত শিশুরা চিকিৎসা শেষে গাজার ফিরে যায়, এবং প্রক্রিয়ায় কোনো মার্কিন করদাতার টাকাও খরচ হয় না। এমন কঠোর রাজনৈতিক প্রভাব মানবাধিকার ও চিকিৎসা অধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। ফিলিস্তিনের বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা আর সংকটাপন্ন শিশুদের জন্য এই ভিসা ছিল আশার এক আলো, যা এখন ঝাঁকুনির সম্মুখীন—এখানে মানবতার জয় না, বীর্যের মৃত্যুলিপি রচিত হলো।




