যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেক্ষাপটে একটি নতুন ২১-ধাপের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন গাজা যুদ্ধ শান্ত করার জন্য, যা আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের মাঝে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছে; এই পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতি, ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা থেকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, হোস্টেজ মুক্তি, এবং গাজার পুনর্নির্মাণ ও প্রশাসন নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক বাহিনী নিয়োগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

25 September 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছে যে এই প্রস্তাবটি শুধু গাজায় সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি নয়, একটি স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে যেখানে প্যালেস্টিনিয়ান কর্তৃপক্ষের কিছু অংশ প্রশাসন ও পুনর্নির্মাণে যুক্ত থাকতে পারে, তবে হামাস এই প্রশাসন থেকে বাদ থাকবে। এতে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর তহবিল দ্বারা পুনর্নির্মাণ কাজ গঠন করা হবে এবং একটি বহুজাতিক সুরক্ষা বাহিনী গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যাতে গাজার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা যায়।
পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো পশ্চিম তীর (West Bank) অংশের অনাক্রমণ (annexation) করা হবে না, যা কিছু দেশ বিশেষভাবে চাইলেও, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলছেন যে এটি মেনে নেওয়া হবে না। এলাকায় মানবিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে, যুদ্ধবিরতির সময় তাজা খাদ্য, মেডিকেল সেবা ও ত্রাণ পৌঁছানোর বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু বাধা দেখছেন অনেক বিশ্লেষক: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ন্যেতানিয়াহু পরিকল্পনার কিছু অংশে আপত্তি প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে হামাস বাদ দেয়ার ব্যাপারে। এছাড়া আরব-মুসলিম দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও অর্থায়ন কতটা হবে, বহুজাতিক বাহিনীতে কত দেশ আগ্রহী হবে, এবং হামাস কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখবে—এসব প্রশ্ন এখনো মেঝেতে রয়েছে।
এই প্রস্তাবনার পর বিশেষ দূত উইটকফ বলছেন, “আমি আশা করি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কিছু বড় অগ্রগতি দেখা যাবে।” আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি গাজার জনগণের মানবিক অবস্থা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, শরণার্থী সংকট মোকাবিলা করতে হবে, এবং যুদ্ধের পর গাজার পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তাজনিত প্রশাসন গঠন করতে হবে যাতে শান্তি টিকিয়ে রাখা যায়।



