যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়া মিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি গাজার যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, তবে অনেক ধারা এখনো অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বলে প্রতিবাদ ও বিশ্লেষণকারীরা বলছেন।পরিকল্পনায় রয়েছে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, বন্দিদের বিনিময়, ইসরায়েলি সৈন্যের ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, হামাসকে অস্ত্র ছেড়ে দেওয়া ও গাজার পুনর্বিবর্তন ও গঠনতান্ত্রিক প্রশাসন গঠন ইত্যাদি। তবে পরিকল্পনায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ নেই গাজার ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো, প্যালেস্টিন রাষ্ট্রাধিকার পূর্ণতা, পশ্চিম তীরের অবস্থা ও সত্যিকারের সময়সীমা।
1 Oct 2025 | Pic: Collected
বিশেষ করে ধারা-সংখ্যা ১৯ ও ২০ তে শুধু “প্রসঙ্গভিত্তিক” ভাষায় উল্লেখ আছে যে, ভবিষ্যতে প্যালেস্টিনের রাষ্ট্রাধিকার প্রাধান্য পেতে পারে; কিন্তু সেটি অধিকার নয়, শর্তসাপেক্ষ। অনেকেই বলছেন, যুদ্ধবিরতির ধারা ও বন্দি বিনিময়সহ বিশিষ্ট ধারা যদিও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কিন্তু যে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও শাসন কাঠামো গঠনের কথা বলা হয়েছে তা সব জায়গায় উদ্ঘাটিত হয়নি।একাধিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন যে, পরিকল্পনায় হামাসকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের শাসন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে সীমাবদ্ধ করা হবে; কিন্তু সেটি বাস্তবায়নযোগ্য কিনা তা স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে অনেক দেশ ও প্যালেস্টিনিদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে, কেননা পরিকল্পনায় নেটানিয়াহু নিজেই শর্ততুল্য কয়েক ধারা সংশোধন করেছেন ও অংশ নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প পরিকল্পনায় উল্লেখ করেছিলেন যে হামাস যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্দি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে ইসরায়েলকে “কাজ শেষ করার” অধিকার দেওয়া হবে। এই ঘোষণা এক ধরনের আগ্রাসী শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে — যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এদিকে, অনেক বিশ্লেষক বলছেন যে পরিকল্পনার অস্পষ্টতা গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে, কারণ অংশীদারদের মধ্যে নির্ভরতা ও বিশ্বাস বিনিয়োগ কঠিন হবে।



