মিসরের শারম এল-শেইখে অনুষ্ঠিত গাজা শান্তি সম্মেলনে ইসরাইল–হামাস সংঘাত নিরসনে অগ্রগতি অর্জনের পর বিশ্বনেতারা একত্রিত হন, যার লক্ষ্য ছিল গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক পথ তৈরি করা। এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ বিশ্বের নানা দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। সম্মেলনের শুরুতে ট্রাম্প নিজের মধ্যস্থতার ভূমিকার প্রশংসা পান এবং শান্তি উদ্যোগে অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

14 Oct 2025 | Pic: Collected
তবে পুরো বৈঠকের চেয়ে বেশি মনোযোগ কাড়ে এক ব্যতিক্রমী মুহূর্ত — যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে মেলোনির প্রশংসা করে বসেন। বক্তৃতার সময় তিনি বিশ্বনেতাদের ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে বলেন, “আমাদের এখানে এক নারী আছেন, এক তরুণী। আমি জানি, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো নারীকে সুন্দর বলা মানেই রাজনৈতিক ঝুঁকি নেওয়া। অনেক সময় সেটিই হয় রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি। কিন্তু তবুও আমি ঝুঁকি নিচ্ছি — আপনি সত্যিই সুন্দরী।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যে সভাস্থলে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়, তবে মেলোনির মুখের অভিব্যক্তি ছিল সংযত ও সামান্য অস্বস্তিকর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্পের মন্তব্যের পরপরই কক্ষে সামান্য নড়াচড়া হয় এবং উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে কেউ কেউ বিস্ময় ও কৌতূহল নিয়ে একে অপরের দিকে তাকান।
মুহূর্তেই ক্লিপটি ভাইরাল হয়ে যায় টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে। অনেক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের প্রশংসাকে “অপ্রাসঙ্গিক” ও “অপেশাদার” মন্তব্য বলে সমালোচনা করেন। কেউ কেউ বলেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনার আসরে একজন নারী নেত্রীকে ব্যক্তিগত সৌন্দর্যের দিক দিয়ে মূল্যায়ন করা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। আবার অনেকে রসিকতার সুরে মন্তব্য করেন, “ট্রাম্প আবারও তাঁর স্বভাবসুলভ খোলামেলা ভঙ্গিতে বিশ্বকে চমকে দিলেন।” অন্যদিকে, কিছু সমর্থক দাবি করেন, ট্রাম্প শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেছেন, এতে অশালীন কিছু ছিল না। একই সম্মেলনে আরেকটি ভিডিওও আলোচনায় আসে, যেখানে দেখা যায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে হাস্যরসাত্মক আলাপে মেতে আছেন। পাশে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ভিডিওতে এরদোয়ান মেলোনিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাকে দেখতে দারুণ লাগছে, তবে আমি আপনাকে ধূমপান ছাড়তে বাধ্য করব।”
মেলোনি তখন হাসতে হাসতে জবাব দেন, “আমি জানি, আমি জানি।” ম্যাক্রোঁ তখন হেসে যোগ করেন, “অসম্ভব!” এই বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনের মুহূর্তও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশেষ করে ট্রাম্প ও এরদোয়ানের এই দুই আলাদা মূহূর্ত মিলিয়ে মেলোনি পরিণত হন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দুই ঘটনাই দেখিয়েছে—বিশ্বনেতাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক মুহূর্তগুলোও কূটনৈতিক মঞ্চে কত দ্রুত আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। মেলোনি, যিনি ইউরোপে রক্ষণশীল রাজনীতির এক শক্তিশালী মুখ, তাঁর দৃঢ়তা ও নেতৃত্বগুণের জন্য পরিচিত; কিন্তু ট্রাম্পের মন্তব্য সেই শক্তির ভেতরেও লিঙ্গভিত্তিক মন্তব্যের বিতর্ককে সামনে নিয়ে আসে। বহু নারীবাদী সংগঠন সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছে যে, একজন নারী প্রধানমন্ত্রীকে “সুন্দরী” বলা মানে তাঁর নেতৃত্বকে ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা। অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছে, এটি ছিল “হাস্যরসাত্মক প্রশংসা”, যা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সম্মেলনের শেষে ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনারা আমার বন্ধু, অসাধারণ মানুষ।
যদিও কয়েকজন আছেন যাদের আমি তেমন পছন্দ করি না— তবে কে তারা, সেটা বলব না।” তাঁর এই মন্তব্যেও হাসির শব্দ শোনা যায় কক্ষে। গাজা শান্তি সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের কয়েকটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্যই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করে নেয়। সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দেখায় কীভাবে রাজনীতির আনুষ্ঠানিকতা ও ব্যক্তিত্ব রাজনীতির মাঝে একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। অনেকেই মনে করেন, এমন ঘটনাগুলো কূটনীতির গুরুত্ব কিছুটা লঘু করে দেয়, আবার কেউ কেউ বলেন, এটি বিশ্বনেতাদের মানবিক দিককে সামনে আনে। সার্বিকভাবে বলা যায়, গাজা শান্তি সম্মেলন থেকে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও ট্রাম্পের “সুন্দরী” মন্তব্যই শেষ পর্যন্ত মিডিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।




