চীন সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক স্থগিত করেছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতি ও সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই বেইজিং এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় (MOF) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি কিছু পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক ‘সাময়িকভাবে স্থগিত’ থাকবে, এবং এটি ২০২5 সালের প্রথম ত্রৈমাসিক পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।
5 Nov 2025 | Pic: Collected
বিবৃতিতে বলা হয়, “দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রপ্তানি পণ্যের ওপর পূর্বে ঘোষিত অতিরিক্ত শুল্ক এই সময়ে আর কার্যকর হবে না।” তবে কোন কোন পণ্যের শুল্ক স্থগিত করা হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি।
এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক চীনের ‘কূটনৈতিক নমনীয়তা’ হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণতা পেয়েছে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর থেকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উভয় দেশ বর্তমানে নতুন এক অর্থনৈতিক ভারসাম্য স্থাপনে আগ্রহী, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে।
২০২৩ ও ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নানা সংকটে পড়ে—বিশেষ করে চিপস ও প্রযুক্তি পণ্যে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, তাইওয়ান ইস্যু, ও দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই পারস্পরিক সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। চীন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে যে তারা আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চায়।
চীনা অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, “আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্রও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে ন্যায্য পদক্ষেপ নেবে, যাতে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও জনগণ উপকৃত হয়।”
বিশ্ব অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাজারে স্বস্তির বার্তা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ওষুধ শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে, এটি চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারকেও কিছুটা স্থিতিশীল করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই পদক্ষেপ হয়তো একটি “অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি” হতে পারে, কারণ বাণিজ্য বিরোধের মূল কারণগুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। তবে, এই স্থগিতাদেশ অন্তত উভয় দেশের জন্য আলোচনার দরজা খোলা রাখবে, যা আগামী মাসগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ তৈরি করতে পারে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চীনের এই সিদ্ধান্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেখাচ্ছে যে, বেইজিং এখন সংঘাত নয়, বরং সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধার পথ খুঁজছে।



