আমেরিকার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে যখন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদপ্রার্থী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেতা জোহরান মামদানি জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাটদের আনুষ্ঠানিক সমর্থন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একাধিক বিবৃতি ও প্রচারণা সভায় দেখা যায়, ডেমোক্র্যাট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মামদানির পাশে দাঁড়িয়েছে, যা তাকে মেয়র নির্বাচনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশাল শক্তি জুগিয়েছে। মামদানি আগে থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় ছিলেন, বিশেষ করে অভিবাসী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে। তবে এবার জাতীয় ডেমোক্র্যাট নেতাদের সমর্থন তার প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিউইয়র্ক রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে মামদানির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন, ফলে নির্বাচনী লড়াইটি একেবারে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। ট্রাম্পের উপস্থিতি শুধু রিপাবলিকান ভোটারদের উজ্জীবিত করছে না, বরং তার বক্তব্য ও আক্রমণাত্মক প্রচারণা মামদানিকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় শিবিরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছে।

12 September 2025 | Pic: Collected
জোহরান মামদানি, যিনি অ্যাসেম্বলিমেম্বার হিসেবে পূর্বে কুইন্স অঞ্চলে কাজ করেছেন, সবসময় প্রগতিশীল রাজনীতির পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। ভাড়াটিয়াদের অধিকার রক্ষা, সাশ্রয়ী বাসস্থান, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং অভিবাসীদের পক্ষে সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি নিউইয়র্কে পরিচিতি পেয়েছেন। তার এই প্রগতিশীল অবস্থান অনেক তরুণ ভোটার ও বঞ্চিত সম্প্রদায়ের কাছে তাকে একজন সত্যিকারের নেতা হিসেবে তুলে ধরেছে। জাতীয় ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন আসায় এখন তিনি নিউইয়র্ক মেয়র নির্বাচনের শীর্ষ প্রতিযোগীদের একজন হয়ে উঠেছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ পুরো প্রচারণাকে আলোচনায় এনে দিয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরের অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের সমর্থন মামদানির বিরোধী প্রার্থীদের জন্য শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সমালোচকরা বলছেন, নিউইয়র্ক মূলত ডেমোক্র্যাট-প্রধান একটি নগরী, যেখানে ট্রাম্পের প্রভাব তেমন কার্যকর হবে না। বরং ট্রাম্পের মাঠে নামা মামদানির জন্য ইতিবাচকও হতে পারে, কারণ এতে তিনি আরও বেশি জাতীয় মনোযোগ পাচ্ছেন এবং ডেমোক্র্যাট ভোটাররা তার পক্ষে একজোট হতে পারছেন।
এছাড়া মামদানির প্রার্থিতাকে ঘিরে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ এশীয় এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই মনে করছেন, মামদানি শুধু তাদের কণ্ঠস্বর নন, বরং আমেরিকায় রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির প্রতীক। তার প্রচারণায় ব্যবহৃত স্লোগান ও বার্তাগুলো সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান এবং সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার প্রতিশ্রুতিকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে ভাড়া সংকট ও গৃহহীনতার সমস্যা নিয়ে মামদানির অবস্থান নিউইয়র্কের বহু ভোটারের কাছে তাকে আলাদা করেছে।
এদিকে ডেমোক্র্যাট নেতাদের সমর্থনও এসেছে কৌশলগত কারণে। নিউইয়র্কে মেয়র পদ সবসময় জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। জাতীয় ডেমোক্র্যাটরা চান এমন একজন প্রার্থীকে সমর্থন দিতে, যিনি শুধু নিউইয়র্কে জয়লাভ করবেন না বরং ভবিষ্যতে ডেমোক্র্যাট পার্টির জাতীয় রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। মামদানি তাদের কাছে এমন একজন প্রার্থী হয়ে উঠেছেন। ফলে তার প্রতি এই endorsement শুধু স্থানীয় নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যতের দিকনির্দেশক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তবে রিপাবলিকান শিবিরের বক্তব্য হলো, মামদানি অতিরিক্ত প্রগতিশীল নীতি নিয়ে এগোচ্ছেন, যা নিউইয়র্কের মতো শহরে আর্থিক সংকট ও ব্যবসায়ী মহলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প এই বিষয়গুলো নিয়েই বারবার আক্রমণ করছেন। তার দাবি, মামদানি মেয়র হলে নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়বে। যদিও ডেমোক্র্যাটরা পাল্টা বলছেন, ট্রাম্প শুধু ভীতি ছড়াচ্ছেন, আসল সমস্যাগুলো সমাধানের কোনো রূপরেখা তার নেই।
সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক মেয়র নির্বাচন এখন মামদানি বনাম ট্রাম্পের ছায়াযুদ্ধে পরিণত হয়েছে। একদিকে মামদানি জাতীয় ডেমোক্র্যাটদের শক্ত সমর্থন ও স্থানীয় জনগণের আবেগ নিয়ে এগোচ্ছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প তার অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। এই দ্বন্দ্ব শুধু নিউইয়র্ক নয়, বরং গোটা আমেরিকার রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।



