মার্কিন ধনকুবের ও যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফরি এপস্টিনের রহস্যজনক মৃত্যু ও যৌন পাচার কেলেঙ্কারিতে এবার নতুন মোড়! কংগ্রেসের ‘হাউস ওভারসাইট কমিটি’ সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদানের জন্য সরাসরি সমন জারি করেছে। শুধু তাই নয়, সাবেক ও বর্তমান মার্কিন বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার নয়জন শীর্ষ কর্মকর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে কমিটি।

6 August 2025 | Pic: Collected
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) এ বিষয়ে এনবিসি নিউজের বরাতে জানানো হয়, হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জেমস কোমারের নেতৃত্বে এই সমন পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রয়াত জেফরি এপস্টিনের ভয়াবহ অপরাধের তদন্তে সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই ব্যক্তিদের সাক্ষ্য প্রয়োজন।
যাঁদের প্রতি সমন জারি হয়েছে, তাঁরা হলেন:
- সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন
- সাবেক সেক্রেটারি অব স্টেট হিলারি ক্লিনটন
- সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার, লরেটা লিঞ্চ, উইলিয়াম বার, মেরিক গারল্যান্ড, জেফ সেশনস এবং আলবার্টো গঞ্জালেস
- সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কমি এবং রবার্ট মুলার
তবে এখানেই শেষ নয়। হাউস কমিটি ২০১৯ সালে কারাগারে মৃত্যুবরণকারী জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত সব “পূর্ণ ও অসম্পাদিত নথিপত্র” আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ)-কে। কমিটির দাবি, বহু তথ্য গোপন করা হয়েছে এবং আমজনতার সামনে পুরো সত্য উদঘাটন জরুরি।
এদিকে, এপস্টিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই রহস্য ও বিতর্ক রয়ে গেছে। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। যদিও এটিকে আত্মহত্যা বলা হয়েছে, কিন্তু একাধিক তদন্তকারী ও ভুক্তভোগীদের পরিবার বিশ্বাস করেন এটি পরিকল্পিত হত্যা।
এই ঘটনার পর বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, তারা নতুন করে আর কাউকে অভিযুক্ত করবে না এবং নতুন কোনো তথ্যও প্রকাশ করবে না। এই ঘোষণার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। কংগ্রেস সদস্যরাও প্রকাশ্যে হতাশা জানিয়ে তদন্তের দাবি জানান। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে যেসব ক্ষমতাশালী ব্যক্তি—বিশ্বের নামকরা রাজনীতিক, সেলিব্রিটি ও ধনকুবেরদের নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিল ক্লিনটন। যদিও ক্লিনটন বরাবরই বলে আসছেন যে, এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সীমিত এবং কোনো অবৈধ কার্যকলাপে তিনি জড়িত ছিলেন না।
তবে এখন সমন জারির পর এই কেলেঙ্কারি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং প্রশ্ন উঠেছে— “এপস্টিনের মৃত্যুর পরও কী লুকানো আছে?” হাউস কমিটির এই উদ্যোগ হয়তো বহুদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা সত্যকে সামনে আনতে পারে।



