নিউইয়র্ক সিটির ডেমোক্র্যাটিক মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানিকে এবার প্রকাশ্যভাবে প্রশংসা করেছেন প্রযুক্তি জায়ান্ট ইলন মাস্ক। X (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এক ভিডিও শেয়ার করে বিলিয়নিয়ার ক্যাপশনে লিখেছেন, “জোহরানই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ।” ভিডিওটি ২৬ অক্টোবর নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী সমাবেশের। সেখানে শহরের গভর্নর ক্যাথি হোচুল নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত হয়ে মামদানির পক্ষে সমর্থনের আবেদন জানান এবং ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু শহর নয়, পুরো দেশকেও পুনর্দখল করতে হবে। জোহরানকে নির্বাচিত করুন, আমেরিকাকে ফেরত আনুন।” সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রগ্রেসিভ নেতা বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ।

28 Oct 2025 | Pic: Collected
হোচুল গত সেপ্টেম্বরে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জোহরান মামদানির প্রশংসা করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “আদর্শিক পার্থক্য থাকলেও আমি বিশ্বাস করি মামদানি নিউইয়র্ক সিটির জন্য প্রয়োজনীয় সাহস নিয়ে কাজ করবেন।”
৩৩ বছর বয়সী মামদানির নির্বাচনী প্রচারণা মূলত তিনটি বড় ইস্যুর উপর কেন্দ্রীভূত—বাসস্থান খরচ নিয়ন্ত্রণ, ভাড়া সহনীয় করা এবং উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর কর বৃদ্ধি। এই ইস্যুগুলো নিউইয়র্কের তরুণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি মামদানির এক মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ব্রঙ্কসের একটি মসজিদের বাইরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “৯/১১-এর পর আমার খালা হিজাব পরে সাবওয়েতে উঠতে ভয় পেতেন। তখন থেকেই মুসলিম নিউইয়র্কবাসীরা শিখেছে—তাদের ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে রাখতে হবে।” এই মন্তব্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের চরম নিরাপত্তার অনুভূতি ও শহরের সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
বিভিন্ন বিতর্ক সত্ত্বেও মামদানি ক্রমেই তরুণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যম ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রকাশ্য প্রশংসা তার প্রচারণায় নতুন গতি যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের মন্তব্য শুধুই রাজনৈতিক সমর্থন নয়, এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা হিসেবেও কাজ করছে, যা নিউইয়র্কের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
মামদানির প্রচারণায় মূল দিকগুলো হলো—বাসস্থানের খরচ কমানো, ভাড়া সহনীয় করা, কর নীতি উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়ের প্রতি প্রতিশ্রুতি। এছাড়া, শহরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়েও তিনি মনোযোগী। ইলন মাস্কের প্রশংসার পর এই বার্তা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা এবং প্রযুক্তি সচেতন নাগরিকরা তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন।
সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির তরুণ ভোটাররা নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে স্বাগত জানাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে জোহরান মামদানির জনপ্রিয়তা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার প্রগ্রেসিভ নীতি ও সামাজিক সচেতনতা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে, ইলন মাস্কের প্রশংসা এবং সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব মিলিয়ে তার জনপ্রিয়তা তরুণ ভোটারদের মধ্যে আরও জোরালো হচ্ছে।
উপসংহারে বলা যায়, জোহরান মামদানির মেয়র পদপ্রার্থী প্রচারণা বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ইলন মাস্কের এক বাক্য—“জোহরানই ডেমোক্র্যাট পার্টির ভবিষ্যৎ”—শুধু নির্বাচনী প্রচারণা নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বার্তাও বহন করছে। এটি দেখাচ্ছে, সামাজিক মাধ্যম, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং রাজনৈতিক প্রচারণার সংমিশ্রণ কিভাবে নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।



