নিউ ইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে সক্রিয় জোহরান “জোহরান কে.” মামদানি সম্প্রতি কুইন্সের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার–এ জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছেন এবং মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে একটি উষ্ণ ও ঐক্যমূলক বক্তৃতা দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে মুসলমান হিসেবে শুধু নিজেই নয়, পুরো সমাজ ও সম্প্রদায়ের জন্য ভূমিকা নিতে হবে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও ইভেন্ট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনুষ্ঠান ৩ অক্টোবর বিকাল ১ টায় অনুষ্ঠিত হয় এবং মামদানি সেখানে “সবার জন্য সংঘের সেতুবন্ধন” গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “Al-Khoei মসজিদে জুমা নামাজে যোগ দিতে পেরে গর্বিত।”
4 Oct 2025 | Pic: Collected
বক্তৃতায় তিনি সম্প্রদায়িক বিভাজন ও বৈষম্য মোকাবিলায় ধর্মভিত্তিক গণ্ডি ভেঙে কাজ করার গুরুত্বের উপর জোর দেন, বলেন, “আমরা যদি সবাই একসাথে চলি, সমাজে শান্তি ও ন্যায্যতা সম্ভব হবে।” নামাজ পরবর্তী কথা বলতে গিয়ে তিনি মুসল্লিদের কাছে ন্যায্য সুযোগ, শিক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের কোন অংশ বাদ পড়তে পারবে না, কারণ একজনও অবহেলিত হলে সমাজ সংকটগ্রস্ত হবে।”
স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়, মসজিদের নেতৃবৃন্দ ও মুসল্লিরা এই উপস্থিতি ও বার্তাকে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। মসজিদ পরিচালন পরিষদ এবং Jamaica Muslim Center–এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে অনুষ্ঠান ও নামাজের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, মামদানির বক্তব্য তাদের মধ্যে নতুন আশা ও দায়িত্ববোধ জাগিয়েছে।
মামদানির এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ — কারণ তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র পদপ্রার্থী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও ধর্মসম্পর্কিত উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মুসলিম ভোটারদের মধ্যে তার ভাবমূর্তি মজবুত করতে চাচ্ছেন। তার সামাজিক মিডিয়া পোস্ট ও মসজিদে আগমন তার প্রচারের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, ধর্মভিত্তিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য মিলিয়ে দিলে নেতাকে আরও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি না হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশ বলেছে, ধর্মীয় মঞ্চকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক পয়েন্টস্কোর করবেন না। নামাজের মতো পবিত্র অনুষ্ঠানে বক্তৃতা ও প্রচার— এগুলো আর্থ-সামাজিক সামঞ্জস্য বজায় রেখে করতে হবে।
এই ঘটনা তুলে ধরে যে, নিউ ইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে ধর্ম ও সম্প্রদায়িক অংশগ্রহণের গুরুত্ব দিনেই বাড়ছে। মামদানির এই পদক্ষেপ – মসজিদে দৃষ্টিগোচর হওয়া, মুসল্লিদের সাথে কথা বলা ও সমাজের কথা তুলে ধরা — তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করার এক কৌশল।



