যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের প্রবেশে শুরু হয়েছে নতুন এক নিরাপত্তা অধ্যায়। নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে দেশটি চালু করেছে প্রযুক্তিনির্ভর ট্র্যাকিং সিস্টেম, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা প্রত্যেক বিদেশির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো—দেশে অবৈধভাবে অবস্থান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি প্রতিরোধ করা।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নতুন ট্র্যাকিং সিস্টেমটি মুখাবয়ব শনাক্তকরণ, বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ এবং অবস্থান নির্ণয় প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত। এতে প্রবেশ বন্দরে আগমন ও প্রস্থান মুহূর্তে বিদেশি ভ্রমণকারীদের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে।

25 Oct 2025 | Pic: Collected
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র মার্ক ম্যালোনি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো বিদেশি নাগরিকদের নিরাপদভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দ্রুত শনাক্ত করা। এটি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ভিসা-অতিরিক্ত অবস্থান বা অবৈধ প্রবেশের ঘটনা রোধ করবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্মার্ট বর্ডার সিকিউরিটি’ উদ্যোগের অংশ। গত কয়েক বছরে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার ও ভিসা ওভারস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন এমন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়।
নতুন এই ট্র্যাকিং প্রক্রিয়ার আওতায় ভিসাধারী, শিক্ষার্থী, কর্মী, পর্যটক—সব ধরনের বিদেশিকেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশেষ করে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে স্থাপন করা হচ্ছে উন্নত বায়োমেট্রিক স্ক্যানার ও ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা। এসব ডেটা রিয়েল-টাইমে যুক্ত হবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেন্ট্রাল সার্ভারে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করা হবে সন্দেহজনক গতিবিধি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য এই ব্যবস্থার সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এই সিস্টেম ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘সেন্টার ফর ডিজিটাল রাইটস’ জানিয়েছে, “বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা না থাকলে তা অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলেছে, এই তথ্য শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির প্রয়োগের জন্য ব্যবহার করা হবে। DHS এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রযুক্তি পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কার্যকর হবে, এবং ভবিষ্যতে কানাডা ও মেক্সিকো সীমান্তেও একই ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে। আগের মতো শুধু পাসপোর্ট ও ভিসা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে এখন প্রযুক্তি-নির্ভরভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফলে, যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে বিদেশিদের বৈধভাবে অবস্থানকেও আরও নিয়মতান্ত্রিক করতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্রযুক্তি-নির্ভর সীমান্ত নীতি’ আগামী দিনে বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশলের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।




