টেক্সাসে একটি গ্যাস স্টেশনে কাজ করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ভারতের হায়দরাবাদ থেকে আসা ছাত্র চন্দ্রশেখর পোলে মারা গেছেন — এই মর্মান্তিক ঘটনা হয়েছে ৩ অক্টোবর রাতে, এবং তা স্থানীয় পুলিশ আর্মড রবারি (সশস্ত্র ডাকাতি চেষ্টা) হিসেবে জেরার ফোকাসে তদন্ত শুরু করেছে। খবরে জানা গেছে, পোলে গ্যাস স্টেশনে পার্ট-টাইম চাকরি করছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন এবং দন্তশাস্ত্রে স্নাতক (BDS) শেষ করার পর মাস্টার্স ইন ডেটা অ্যানালিটিক্স পড়ছিলেন।সংবাদমাধ্যম বলেছে যে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসকেরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু গুরুতর অবস্থায় প্রাণ ফেরাননি। হিউস্টন ভারতের কনসুলেট জানিয়েছে, তারা মৃত ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে। তেলেঙ্গানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডি মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের দেহ الوطن ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

5 Oct 2025 | Pic: Collected
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া প্রথম তথ্য অনুসারে, চন্দ্রশেখরকে ছুরিকাঘাত করে গুলি চালানো হয়েছে, এবং তার মরদেহ গ্যাস স্টেশনের পাশেই খুঁজে পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দৃশ্যমান ভিডিও ফুটেজ, গ্যাস স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতি সংগ্রহ করছে। পোলে নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভারতীয় স্টুডেন্ট সম্প্রদায়ে দুঃখের ছায়া নেমে আসে এবং অনেকে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে।
এই ধরনের হত্যাকাণ্ড যেমন একজন তারুণ্যশিক্ষার্থীর ওপর আঘাত হানছে, তেমনি বিদেশে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, শিক্ষার্থীরা কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করছেন–রাতভোর কাজ, জনসাধারণে থাকা–এ ধরনের শর্ত তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে। এমনকি কিছু সংবাদে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ছাত্রদের হত্যা ঘটনার সংখ্যা ২০১৮ সাল থেকে প্রায় ৮০০-রও বেশি হয়েছে।
এই ঘটনায় চন্দ্রশেখরের পরিবার রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা চান, বিশেষ করে দেহ প্রতিদান, খরচ ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, গুলি ও ছুরিকাঘাত একসাথে হয়েছে, এবং এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে — এটি শুধু ডাকাতির চেষ্টা নয়, অনেক বেশি জটিল ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তদন্তকারীরা।
কিছু সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ঘটনার পরে গ্যাস স্টেশনের কর্মীরা ভয়াহত অবস্থায় ছিল এবং অনেকেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় একটি প্রশ্ন খাড়া হয়েছে — বিদেশে থাকা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? শিক্ষার্থী-আশ্রয়ী নীতিমালা ও বিদেশে তাদের সুরক্ষার জন্য উদ্যোগ কতটা কার্যকর তা নিয়ে আদালত, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পরিশেষে, এই ঘটনাটি এক তরুণ ছাত্রের জীবনের শেষ খণ্ড হওয়া সত্ত্বেও শোক ও ভাবনার এক বিশাল স্রোতে পরিণত হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি উঠেছে — এবং পুরো ভারতীয় ছাত্র সমাজ, তাদের পরিবার ও দেশ এই ধরনের ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শক্তিশালী নীতির আহ্বান করছে।




