প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন বিষয়ে কঠোর নীতি চালু হওয়ায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)–এর অভিযান জোরদার হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশি কমিউনিটিও আতঙ্কিত অবস্থায় পড়েছে। বিশেষ করে অবৈধভাবে বসবাসকারীরা ও যাঁদের আদালতের মামলা চলমান আছে, তারা এখনও ‘due process’ ধরার অধিকার রাখেন বলে আশ্বস্থ করেছেন নিউ ইয়র্কভিত্তিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এন. মুজুমদার। তিনি টিবিএন অ্যানালাইসিসে বর্ণনা করেন, যারা দুই বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং বৈধ ভিসায় এলে, তাদের ডিউ প্রসেস দেওয়া হবে—মানে তারা আদালতে পেশ করার সুযোগ পাবেন।

16 July 2025 | Pic: Collected
কিন্তু পরিস্থিতি ভিন্ন হলে যেমন কেউ ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করেছিলেন বা যথাযথ নথিপত্র না থাকলে, তারা ‘bogus petition’–এর কারণে ঘটনাস্থলে ডিটেইনে আটকতে পারেন, এমন উদাহরণও শোনা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ প্রস্তুতি না থাকলে আপনি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
বর্তমান ICE অভিযানে দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন শহরে—including লস এঞ্জেলেস ও নিউ ইয়র্ক— বরাবরের চেয়ে বেশি নন-ক্রিমিনাল অভিবাসীদেরকে আটক করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে অনেকেই আদালতের জন্য হাজিরা দিতে গিয়ে ‘check-in arrests’–এর শিকার। নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে জানানো হয়েছে, জুন মাসে ICE–এর আটক বেড়েছে ৪৬%, এবং তার বড় অংশ গোয়েন্দা নির্মাণে, ক্লিভার ক্যাম্পাসে এবং ফেডারেল বিল্ডিংয়ে ঘটে The Times of India।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিরা করণীয় কী? মুহাম্মদ মুজুমদার পরামর্শ দিয়েছেন:
- কোনো থাইম ভ্রমণ করবেন না যদি গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো সমস্যা থেকে থাকে,
- কোর্টে হাজিরার জন্য প্রস্তুত থাকুন—আইনজীবীর মাধ্যমে আপনার ডিউ প্রসেস চালান,
- ভুল বা বানোয়াট তথ্য দিয়ে আবেদন করলেও ভবিষ্যতে আপনার ডিটেইন হওয়া স্বাভাবিক, তাই তথ্য যাচাই করুন।
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে ব্রুকলিন থেকে চারজন বাংলাদেশি আটক হয় আইস অভিযানে, যদিও পরে ডিউ প্রসেসে হেফাজতে রাখা হয় । এছাড়াও জাতীয় পর্যায়ে ICE–এর অভিযান চলাকালে নাসাউ কাউন্টিতে ৫ মাসে ১,৪০০-এর বেশি অভিবাসী আটক হয়েছে, যা উদ্বেগের বিষয় ।
অবৈধ হওয়া থেকে গুজবে ভয়ে সহজে স্বেচ্ছায় বিতাড়নের চাপে পড়বেন না, কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য সঙ্কট তৈরি করে ‘self-deportation’ করানো । তবে অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায়—and কিছু শিল্পে অভিবাসীর ভূমিকা—তাই বিভিন্ন বিশ্লেষণে GDP ও কর্মসংস্থান হ্রাসের কথা বলা হচ্ছে ।
সর্বশেষ, আইস অভিযান বন্ধের জন্য বিচারিক নির্দেশ দেখা গেছে—যেমন ক্যালিফোর্নিয়ার সাতটি কাউন্টিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, অধিকাংশ ব্যক্তিকে ইচ্ছেমত আটক বা দমন থেকে বিরত রাখা হয়েছে । তবে এর পর ICE–এর কার্যক্রম ধর্মান্ধভাবে চলছে, যার ফলে সহায়তার প্রয়োজনে কমিউনিটি লিগ্যাল নেটওয়ার্ক বা ফ্রি লিগ্যাল সাহায্য কেন্দ্র-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।



