যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক নাটকীয়তা যেন দিন দিন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলার তদন্তকারী বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ এবার নিজেই তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন। হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্ডান ইতোমধ্যে স্মিথের নেতৃত্বাধীন তদন্ত দল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং অফিস অফ স্পেশাল কাউন্সেলকে (OSC) অনুরোধ করেছেন, জ্যাক স্মিথের দপ্তরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে।

তিনি অভিযোগ করেন যে, স্মিথের নেতৃত্বাধীন টিম শুধু ট্রাম্পের ক্ষতি করতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছে এবং ফেডারেল প্রশাসনিক নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বারবার নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। এতে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ফক্স নিউজের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘ক্লাসিফায়েড ডকুমেন্টস কেস’ ও ‘২০২০ সালের নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগে স্মিথের দপ্তর মামলাগুলো পরিচালনা করছে।
কিন্তু রিপাবলিকানরা বলছেন, এসব তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত এবং এর পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট শিবির একে ট্রাম্পের নতুন কৌশল হিসেবে দেখছে, যেখানে তিনি তদন্তকারীকেই প্রতিপক্ষ বানিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন। উল্লেখ্য, জ্যাক স্মিথ একজন প্রখ্যাত ফেডারেল প্রসিকিউটর যিনি জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও কাজ করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই তদন্ত আসলেই নিরপেক্ষভাবে হবে কিনা, নাকি এটি আরও একটি রাজনৈতিক নাটক হয়ে থাকবে? কংগ্রেসে এই ইস্যু নিয়ে ইতোমধ্যে চরম মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পের সমর্থকরা একে তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াই হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে সমালোচকরা এটিকে বিচার ব্যবস্থার ওপর আঘাত হিসেবেই বিবেচনা করছেন।
জ্যাক স্মিথ এখনও এই নতুন তদন্ত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি, তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেটি এখন সময়ই বলে দেবে, তবে এটা নিশ্চিত যে ট্রাম্প ও তাঁর তদন্তকারীদের ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে।
Ask ChatGPT




