ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাতনি কাই ট্রাম্প, বয়স মাত্র ১৮, সম্প্রতি নিজের নামে একটি পোশাক ব্র্যান্ড চালু করে নতুন আলোচনায় এসেছেন এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ট্রাম্প পরিবারের এই তরুণ সদস্য খুব দ্রুতই ফ্যাশন দুনিয়ায় নিজের অবস্থান তৈরি করতে চাইছেন। কাই ট্রাম্প তার ব্র্যান্ডের নাম দিয়েছেন “KT”, যেখানে “KT” মানে কাই ট্রাম্প, আর এই ব্র্যান্ডের প্রথম পণ্যের মধ্যে রয়েছে সোয়েটশার্ট, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৩০ ডলার। শুধু দাম বা নকশা নয়, বরং লঞ্চের ভঙ্গিই খবরের শিরোনাম হয়েছে, কারণ তিনি পোশাক লাইন উদ্বোধনের ছবি তুলেছেন হোয়াইট হাউসের লনে, যা তাৎক্ষণিকভাবে মিডিয়া ও জনমতের নজর কাড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবিতে কাই ট্রাম্প পরেছিলেন কালো সোয়েটশার্ট, যাতে লেখা ছিল তার নিজের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ “KT” এবং সঙ্গে ছিল তার স্বাক্ষরের ডিজাইন।
28 September 2025 | Pic: Collected
তিনি লিখেছেন, “এটা শুধু মার্চেন্ডাইজ নয়, এটা একটি আসল ব্র্যান্ড; আমি এমন কিছু তৈরি করতে চাই যেটা প্রতিদিনের জীবনে যে কেউ সহজেই ব্যবহার করতে পারে।” এই লঞ্চের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Daily Beast রিপোর্ট করে যে, ট্রাম্পের নাতনির পোশাক লাইন হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এক বিরল ঘটনা, যা রাজনীতি এবং ব্যবসার মিলিত প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু ট্রাম্প নাম নিজেই একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড, তাই কাইয়ের পোশাক লাইন প্রথম বছরেই ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের মতে, কাইয়ের লঞ্চ কৌশল তরুণ প্রজন্মের সাথে সংযোগ ঘটাতে পারবে, কারণ তিনি একইসাথে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। ইতোমধ্যেই তার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে এবং বহু ফলোয়ার প্রশংসা করেছেন যে, তিনি নিজস্ব পরিচয়ে কিছু শুরু করেছেন, যা কেবল তার পরিবারের খ্যাতির উপর নির্ভরশীল নয়। তবে সমালোচকরাও আছেন, যারা বলছেন, এত অল্প বয়সে এত উচ্চ মূল্যের পোশাক বাজারজাত করা সবার নাগালের বাইরে হয়ে যাবে এবং ব্র্যান্ডটি হয়তো কেবল ধনী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করবে।
Newsweek এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কাইয়ের পোশাক লাইন যদি নিয়মিত নতুন কালেকশন এবং বৈচিত্র্য আনতে না পারে তবে দীর্ঘমেয়াদে সফলতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। এছাড়া বাজারের প্রতিযোগিতা এখন অনেক বেশি, যেখানে কাইলি জেনার, হেইলি বিবারসহ অনেক তরুণ তারকাই নিজস্ব পোশাক ও কসমেটিক্স ব্র্যান্ড চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, কাই ট্রাম্পের প্রতি মিডিয়ার বাড়তি নজর তাকে দ্রুতই গ্লোবাল ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত করে তুলতে পারে, যা একজন নতুন উদ্যোক্তার জন্য বিরল সুবিধা। সম্প্রতি কাই রাইডার কাপ গলফ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেন তার জ্যাঠা ট্রাম্পের সাথে, এবং সেখানেও তিনি তার ব্র্যান্ডের পোশাক পরিধান করে উপস্থিত হন, যা আবারও মিডিয়ার দৃষ্টি কাড়ে। Hola! ম্যাগাজিন লিখেছে, কাইয়ের পোশাক লাইন তার ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটায়—সাধারণ কিন্তু আধুনিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে, ব্র্যান্ডটি দেখতে আভিজাত্যপূর্ণ হলেও ডিজাইনের সরলতা একে আলাদা করেছে।
ব্যবসায়িক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, কাই যদি আন্তর্জাতিক বাজার লক্ষ্য করে অনলাইন সেলসের উপর জোর দেন, তবে দ্রুতই তার ব্র্যান্ড ইউরোপ এবং এশিয়ার বাজারে জায়গা করে নিতে পারবে। এমনকি বড় বড় গলফ বা স্পোর্টস ব্র্যান্ড যেমন TaylorMade সম্প্রতি কাই ট্রাম্পকে এনডোর্সমেন্ট ডিলে সই করিয়েছে, যা প্রমাণ করে কাই ইতোমধ্যেই ফ্যাশনের পাশাপাশি স্পোর্টস মার্কেটেও নজর কাড়ছেন। সবমিলিয়ে বলা যায়, কাই ট্রাম্পের এই নতুন উদ্যোগ শুধু একটি ব্যবসা নয়, বরং এটি ট্রাম্প পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের এক নতুন পদক্ষেপ, যেখানে রাজনীতি, জনপ্রিয়তা এবং ব্যবসার সংমিশ্রণ ঘটছে। তিনি সফল হবেন কি না, তা সময় বলে দেবে, তবে একথা নিশ্চিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাশন ও মিডিয়া অঙ্গনে কাই ট্রাম্প নামটি এখন নতুন এক আলোচনার বিষয়।



