প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পায়ে ফোলাভাব দেখা দেওয়ার পর তাঁর শরীরে একটি নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা ধরা পড়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে পরিচিত ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি (Chronic Venous Insufficiency বা সিভিআই) নামে।
হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের এই স্বাস্থ্যগত সমস্যার বিষয়টি সর্বসাধারণের সামনে তুলে ধরেছে। ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ের শিরাগুলো যদি যথাযথভাবে কাজ না করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন সিভিআই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সাধারণত, পায়ের শিরার ভালো ভালভগুলো হৃৎপিণ্ডের দিকে রক্ত প্রবাহ বজায় রাখে, কিন্তু সিভিআই হলে এই ভালভগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে পায়ে রক্ত জমাট বাঁধে ও চাপ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পায়ের ফোলাভাব, বেদনা এবং কখনো কখনো আলসার পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।

18 July 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিকিৎসক শন বারবাবেলা এক সংক্ষিপ্ত লিখিত বার্তায় জানিয়েছেন, পায়ে সামান্য ফোলাভাব দেখা দেয়ার পর তিনি ট্রাম্পের পুঙ্খানুপুঙ্খ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তাঁর পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে, ধমনির মতো মারাত্মক কোনো রোগ ধরা পড়েনি। ৭৯ বছর বয়সী এই প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের সার্বিক স্বাস্থ্য “চমৎকার” অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্যগুলো পাঠ করেন এবং পরে হোয়াইট হাউস তা প্রকাশ করে। এই ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল তা কিছুটা কমেছে।
সিভিআই হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি শিরার সমস্যা যা সাধারণত বৃদ্ধ বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এর জন্য নিয়মিত চিকিৎসা এবং শারীরিক সচেতনতা প্রয়োজন। হালকা থেকে মাঝারি পর্যায়ে থাকলে ব্যায়াম, উচ্চতায় পা রাখা এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা বা শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
ট্রাম্পের পায়ের ফোলাভাবের খবর সামনে আসার পর থেকেই অনেকেই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তবে এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, সিভিআই রোগ থাকলেও এটি মারাত্মক নয় এবং তাঁর বর্তমান স্বাস্থ্যের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে নি।
সর্বোপরি, চিকিৎসকরা ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা শক্তিশালী এবং তিনি নিয়মিত নিজের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।




