যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট বিবিসিকে ‘শতভাগ ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ এবং ‘প্রোপাগান্ডা মেশিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই মন্তব্য এসেছে তখন, যখন বিবিসির সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্যানোরামা ডকুমেন্টারির ওপর তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

11 Nov 2025 | Pic: Collected
শনিবার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেভিট বলেন, যুক্তরাজ্যে সফরের সময় হোটেলে বিবিসি দেখতে বাধ্য হলে তার দিনটাই নষ্ট হয়ে যায় এবং করদাতাদের অর্থ বামপন্থি প্রচারযন্ত্রের জন্য ব্যয় হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিবিসি ট্রাম্পের বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে, যা গণমাধ্যমের নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে।
ডকুমেন্টারিতে ট্রাম্পের ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির বক্তব্যের কিছু অংশ কেটে একত্রিত করা হয়েছে। লিক হওয়া নথি থেকে জানা গেছে, বিবিসি ট্রাম্পের বক্তব্যের দুটি অংশ সংযুক্ত করেছে। এতে দেখা যায়, ট্রাম্প সমর্থকদের ক্যাপিটলে গিয়ে ‘ফাইট লাইক হেল’ বলার অংশ দেখানো হলেও, এর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য বাদ দেওয়া হয়েছে। লেভিট এই সম্পাদনা প্রক্রিয়াকে উদ্দেশ্যমূলক এবং প্রোপাগান্ডামূলক উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বিতর্কগুলো ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে বিবিসির ওপর আস্থা কমাতে এবং মিডিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে। এদিকে, বিবিসি অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা শুধু ‘উপযুক্ত প্রেক্ষাপট’ দেখানোর জন্য সংক্ষিপ্ত সম্পাদনা করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কিত মিডিয়া বিতর্কগুলো ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থকরা যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং প্রচার মাধ্যমে খবরের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেন, সেখানে বিবিসি সম্পর্কিত অভিযোগ তার রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও জোরদার করছে।
এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিবিসি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং মার্কিন গণমাধ্যমে এর প্রভাব কতটুকু হতে পারে, তা নজরকাড়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটও জড়িয়ে আছে, যেখানে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং সত্যের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।




