যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আলোচনায়। সাম্প্রতিক এক জনসভায় তিনি দাবি করেছেন, তাঁর কাছে এমন পরমাণু অস্ত্র ছিল যা দিয়ে পুরো বিশ্বকে “১৫০ বার উড়িয়ে দেওয়া” সম্ভব। এই বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট, বিবিসি এবং সিএনএন জানায়, ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমাদের এত শক্তিশালী নিউক্লিয়ার ক্ষমতা আছে যে পৃথিবীকে ১৫০ বার ধ্বংস করা সম্ভব। আমেরিকাকে দুর্বল মনে করার কোনো সুযোগ নেই।” বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এবং তাইওয়ান ইস্যুর প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
3 Nov 2025 | Pic: Collected
বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরে রাখছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে।” তবে ট্রাম্পের সমর্থকেরা দাবি করেছেন, তাঁর বক্তব্য ছিল প্রতীকী—এর মাধ্যমে তিনি আমেরিকার সামরিক শক্তির ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়, ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য নতুন কিছু নয়। তাঁর প্রেসিডেন্ট মেয়াদেও তিনি উত্তর কোরিয়া, ইরান ও চীনকে একইভাবে হুমকি দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়াকে ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি’ হুমকি দেওয়ার ঘটনাটি তখনও বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ন্যাটো, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ওপরও তার প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এই বক্তব্য কেবল অভ্যন্তরীণ ভোটারদের আকর্ষণ নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির বার্তাও বহন করে।”
এদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও নিউক্লিয়ার ওয়ার্ল্ড কন্ট্রোল কমিটি। তারা বলছে, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে এমন মন্তব্য “অমানবিক এবং বিপজ্জনক।”
বর্তমানে মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে। ট্রাম্প রিপাবলিকান দলে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্যকে অনেকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন, যাতে তিনি আমেরিকান ভোটারদের কাছে শক্তিশালী ও নির্ভীক নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন।
বিশ্ব রাজনীতিতে তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বরং রাশিয়া, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে বৈশ্বিক কূটনীতিতে “অস্থিরতা” নতুন মাত্রা পেতে পারে।



