২০২৫ সালের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম স্যাক্রামেন্টোতে পলিটিকোর ক্যালিফোর্নিয়া সামিটে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক বিতর্কিত বক্তব্য রাখেন। গভর্নর নিউজম বলেন, “যদি আমরা আমাদের সতর্কতা বাড়াই না, তবে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ ছাড়বেন না। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য এক বড় হুমকি।” নিউজমের মতে, ট্রাম্পের পদক্ষেপ এবং আচরণ দেশের প্রতিষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যায়।

3 September 2025 | Pic: Collected
গভর্নর নিউজম আরও বলেন, “ট্রাম্প কখনও বিশ্বাস করেননি মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচনে। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলা তার প্রমাণ। সে সময় তিনি দেশের গণতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ান। আমরা যদি তখন যথাযথ ব্যবস্থা নিইনি, তবে আজকের পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারত।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে গভর্নর স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দেশনেতৃত্বে অবৈধ বা স্বৈরাচারী আচরণ যে কোনও সময় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
নিউজমের বক্তব্যের পর, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন একটি বিবৃতি দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেন, “গভর্নর নিউজম এক ধরনের প্যানিক মিডিয়া ট্যুর করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান জনগণের জন্য একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছেন এবং দেশের অর্থনীতি, বিদেশনীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।” হোয়াইট হাউসের এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিউজম তার বক্তৃতায় আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্প যদি দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে হোয়াইট হাউজ ছাড়েন না, তাহলে তা শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, দেশকে এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে ফেলার কারণ হবে। তিনি বলেন, “আমরা যদি এখনই সতর্ক না হই, তবে আমরা আমাদের দেশ হারাব। আমাদের প্রয়োজন জনগণকে সতর্ক করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সবল রাখা।” নিউজমের বক্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশকে সতর্ক করার এক সংকেত হিসেবে দেখছেন।
গভর্নর নিউজমের বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ধরনের আচরণ শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তারা বলেন, “যদি হোয়াইট হাউজে অবৈধভাবে থাকার চেষ্টা করা হয়, তাহলে এটি আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
নিউজমের এই সতর্কবার্তার পর মার্কিন কংগ্রেসেও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের কিছু সদস্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, “গণতন্ত্র রক্ষার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। হোয়াইট হাউজে অবৈধ অবস্থান দেশের জন্য হুমকি।”
এছাড়া, গভর্নর নিউজম তার বক্তৃতায় আমেরিকান জনগণকে অবহিত করেছেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া রক্ষার জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “জনগণকে সচেতন হতে হবে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হবে এবং স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। এটি শুধু একটি রাজনীতির বিষয় নয়, এটি দেশের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।”
নিউজমের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সরকারের মধ্যে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে। গভর্নরের মতে, রাজনৈতিক নেতারা যদি এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ না নেন, তবে দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি ভেঙে যেতে পারে।
এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের অবৈধ হোয়াইট হাউজ অবস্থানের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্যও একটি বড় হুমকি। নিউজমের বক্তব্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া প্রদান করেছে।
শেষ পর্যন্ত, গভর্নর নিউজমের বক্তব্যটি কেবল রাজনৈতিক সমালোচনা নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা। এটি আমেরিকান জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, গণতন্ত্র রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব। নিউজম স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা যদি এখনই সতর্ক না হই, তবে আমাদের দেশ হারাব।” এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ধরা হবে।




