যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক ঘোষণায় ভারত, পাকিস্তান, চীন ও আফগানিস্তানসহ মোট ২৩টি দেশকে ‘প্রধান মাদক পাচারকারী বা অবৈধ মাদক উৎপাদনকারী দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই তালিকায় আরও রয়েছে মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়া, মিয়ানমার, লাওস, গুচেমালা, এল সালভাদর, ইকুয়েডর, পানামা, পেরু ও ডোমিনিকান রিপাবলিকসহ লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশ।

19 September 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প প্রশাসনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব দেশ আন্তর্জাতিক মাদক পাচার ও উৎপাদন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে অথবা তাদের ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে মাদক পাচারের বড় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান, বলিভিয়া, মিয়ানমার, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলাকে ‘প্রমাণযোগ্যভাবে ব্যর্থ’ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনে তারা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
ভারত ও পাকিস্তানকে তালিকাভুক্ত করা নিয়ে দুই দেশেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম বলছে, একতরফা এই সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান জানায়, তারা মাদকবিরোধী প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সহযোগী এবং এ অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে। মাদকবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ দিয়ে আসছে।
এবার ভারত ও পাকিস্তানকে তালিকাভুক্ত করার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে। এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রে মাদকসংক্রান্ত মৃত্যু ও জনস্বাস্থ্য সংকট বেড়ে চলেছে। প্রশাসন বলছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগামী দিনে আরও কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং মাদক পাচার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক চাপে রাখা হবে।




