
22 Oct 2025 | Pic: Collected
মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন তার দাবিকৃত মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণকে ঘিরে। ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, বিচার বিভাগের কাছে তার বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওনা রয়েছে, যা মূলত ফেডারেল তদন্ত ও আইনি লড়াইয়ের খরচের হিসাব। তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের কাছে আমার বিশাল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাওনা রয়েছে। তবে আমি চাইলে সব অর্থই দান করতে পারি। আমার উদ্দেশ্য ক্ষতিপূরণ আদায় নয়, বরং আইন ও ন্যায়ের নীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি আবারও তুলে ধরে তিনি কতটা সক্রিয়ভাবে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত ফেডারেল তদন্তগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প ফেডারেল তদন্তে খরচ বাবদ প্রায় ২৩ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, যা মূলত আদালতের খরচ, আইনজীবীর ফি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খরচ অন্তর্ভুক্ত। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তিনি এই ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য কোনো অবিলম্বে পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, বরং এটি একটি নৈতিক ও আইনি ভিত্তিতে তার অবস্থান প্রমাণের প্রয়াস।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্তগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “তাদের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনে কারচুপি দেখানো, কিন্তু আমি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছি।” এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ট্রাম্পের পুনরায় রাজনৈতিক রূপকৌশল হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। তিনি তার ক্ষতিপূরণ দাবি করে যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন যে, আদালত ও প্রশাসনের খরচের দায়ভার কখনোই ব্যক্তিগতভাবে তার উপর চাপানো উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দাবির মাধ্যমে তিনি তার সমর্থকদের মধ্যে আইনি ও নৈতিক সাপোর্ট তৈরি করতে চাইছেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারণায় এটি শক্তি হিসেবে কাজে লাগানো যায়। ট্রাম্পের এই দাবি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিধ্বনি ফেলেছে। এ বিষয়ে সংবাদ সংস্থা AP জানিয়েছে, “ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ দাবি শুধু অর্থের বিষয় নয়, এটি রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটের একটি জটিল বিষয় যা তার পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করতে পারে।”
অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান তার রাজনৈতিক কৌশল এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। এর পাশাপাশি, ট্রাম্পের দাবি প্রমাণ করে যে, সাবেক প্রেসিডেন্টরা এখনও বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক রণনীতি অবলম্বন করতে সক্ষম। ট্রাম্পের পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষতি ও আইনি খরচের প্রতিফলন হিসেবে, এবং এটি রাজনৈতিক আক্রমণ নয়। এছাড়া, তারা জানান যে, ট্রাম্প সব অর্থ দানের জন্য প্রস্তুত এবং এটি তার দাতব্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গণ্য করা উচিত। এই ঘটনার পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ দাবি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি তার সমর্থকদের মধ্যে পুনরায় শক্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের দাবিকে কেবল অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়; এটি রাজনৈতিক ও আইনি সমন্বয় এবং সামাজিক প্রভাবেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই দাবির মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, সাবেক প্রেসিডেন্টরা শুধু নির্বাচনী রাজনীতি নয়, আইনি ও নৈতিক অবস্থানও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছেন তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে।




