যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমস, পাঁচ জন সাংবাদিক ও প্রকাশক সংস্থা “Penguin Random House”-কে $১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মানহানির মামলা করেছে, অভিযোগ করেছেন তারা তার এবং তার কোম্পানির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও দুঃখজনক তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছে। এই মামলা ফ্লোরিডার কেন্দ্রীয় জেলা আদালতে দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টাইমসের কিছু প্রতিবেদন ও একটি বই — “Lucky Loser: How Donald Trump Squandered His Father’s Fortune and Created the Illusion of Success” — নির্বাচনের আগে এবং পরে এমনভাবে লেখা হয়েছে যা ট্রাম্পের খেতাব, ব্যবসার সুনাম ও ব্যক্তিগত মর্যাদাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে।

16 September 2025 | Pic: Collected
মামলায় বলা হয়েছে, এসব লেখা অনেকটা “actual malice” অর্থাৎ “জান-বুজে এবং অভিপ্রায়বশত মিথ্যা” তথ্য প্রকাশ করার অভিযুক্ত কাজ। ট্রাম্পের আলোচিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে টাইমসের একটি সম্পাদকীয় প্রতিবেদন, যেখানে বলা হয়েছিল তিনি রাষ্ট্রপতির হিসেবে অযোগ্য — “unfit for office” — এমন ধারণা ফুটে উঠেছিল। মামলার বিবরণে বলা হয়, ট্রাম্প মিডিয়া ও তার পরিবার, তার প্রতিষ্ঠান “Trump Media and Technology Group (TMTG)” এর শেয়ার দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এই প্রতিবেদন ও বইয়ের কারণে। অভিযোগে বলা হয়েছে, টাইমস ও প্রকাশন সংস্থা জানতেন বা অবহেলা করেছিলেন যে তাদের কিছু তথ্য ভুল হতে পারে, কিন্তু তবুও প্রকাশ করেছেন।
টাইমস ও Penguin Random House এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি মামলার দায়ের আকর্ষণের পর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মামলা শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ নয়, বরং সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি বড় পরীক্ষা। যদি আদালত ট্রাম্পের দাবি মেনে নেয়, তাহলে সংবাদপত্রগুলো নির্বাচন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কিভাবে করবে তার দিকে নতুন বিধিনিষেধ আসতে পারে। বিরোধীরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই ধরনের দাবি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকি রচনা করতে পারে এবং সংবাদপত্রগুলোর দায়িত্ব হোক সত্য যাচাই করা এবং ভুল তথ্য ছাপানোর আগে সতর্ক হওয়া। মামলাটি বর্তমান সময়কার এক বড় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মিলনবিন্দু, যেখানে রাজনৈতিক মতামত ও সংবাদ বিশ্লেষণের অনুমান এবং সত্যের মধ্যে পার্থক্য বিবেচনায় আসছে।



