একই কুঠুরীতে ৩৭ পাতার একটি মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট নিউ ইয়র্ক সিটি, তার মেয়র এরিক অ্যাডামস, পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থা এবং কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করেছে যে এই শহর গতকালের “স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি” বিধান অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের ওপর ফেডারেল আইন প্রয়োগ থামিয়ে দিয়েছে এবং তাই ক্রমশ আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়েছে । মামলায় ডিপার্টমেন্ট দাবি করেছে যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন ডিটেইনার রিকোয়েস্ট যথেষ্ট মাত্রায় মানা হয়নি—২০২৪ অর্থবছরে মাত্র ৪ % রিকোয়েস্ট পূরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ।

25 July 2025 | Pic: Collected
মামলাটি এমন এক ঘটনার আগে দায়ের করা হয়েছে যখন ম্যানহাটনের এক পার্কে অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে দুই দুর্বৃত্ত ছিনতাইয়ে বাধা দিতে গিয়ে একজন অফ-ডিউটি সিবিপি কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের একটি অন্তত একজন পূর্বে সরকারি ডিটেইনার থাকা সত্ত্বেও নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ তাকে ছেড়ে দিয়েছিল ।
অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি সরাসরি অভিযোগ করেন:
“স্যাঙ্কচুয়ারি নীতির কারণে হাজার হাজার অপরাধী সাধারণ মানুষের চলার পথে বেরিয়ে এসেছে” Department of JusticeThe Washington Post।
মেয়র অ্যাডামসের প্রতিক্রিয়া: তিনি স্যাঙ্কচুয়ারি আইনগুলোর মূল উদ্দেশ্য স্বীকার করলেও বলেছেন, গড়পরতা নয়—তবে কিছু খামির সমাধানের জন্য সংশোধন দরকার, বিশেষ করে যেখানে হিংস্র অপরাধে জড়িত অপরাধীদের বিষয়ে নিরাপত্তাগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু সিটি কাউন্সিল এখনো কোনো সংশোধনী প্রস্তাব মঞ্জুর করেনি । এর ফলে অ্যাডামসের অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“কাউন্সিল যদি সঙ্গত অংশে আইন সংশোধনী প্রস্তাব করে”—তখন আইন প্রনয়নে সহযোগিতা করা সম্ভব—“তখন আমিও রাজি” AxiosKMBC।
নাগরিক অধিকার গ্রুপগুলোর প্রতিক্রিয়া:
New York Immigration Coalition ও Civil Liberties Union সহ বিভিন্ন মহল বলছে, স্যাঙ্কচুয়ারি নীতি বাস্তবিকেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে—অপরাধ প্রচারণার সময় মানুষ নির্ভয়ে থানায় অভিযোগ দিচ্ছে এবং কমিউনিটি পুলিশিং উৎসাহিত হচ্ছে। তাদের মতে, এই নীতি জনসাধারণের নিরাপত্তার পরিপূরক ।
মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে গেলে Supremacy Clause এবং Tenth Amendment যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বাধ্যতামূলক শক্তিকে আলোচনায় নিয়ে আসবে—যেখানে ডিওজে দাবি করেছে, স্থানীয় আইন ফেডারেল আইনকে বাধাগ্রস্ত করছে; অ্যাডামস এবং কাউন্সিল জানিয়েছে এটি জোর করে রাজ্যের ক্ষমতা হরণ করা হচ্ছে ।
মামলাটি নিউ ইয়র্ক একক নয়—আগামী মাসগুলোতে লস অ্যাঞ্জেলেস, ইলিনয়, রোচেস্টার সহ বেশ কিছু স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্যাঙ্কচুয়ারি নীতি চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ।
বাজারে এবং গণমাধ্যমে এই মামলার প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে—নিউ ইয়র্কের ইউএস সেশন জজ, সিটি প্রশাসন এবং স্থানীয় আইনসভা কমিউনিটি তাকিয়ে আছে কী হবে পরবর্তীতে।




