যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসনের ভিসা নীতি ও নতুন নিয়ম-নীতি সংক্রান্ত একটি ব্যাপক আইনি মামলা সামনে এসেছে, যেখানে ২০টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল বা প্রধান আইন কর্মকর্তা সম্মিলিতভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল মামলা দায়ের করেছেন, এই মামলাটি মূলত এইচ-১বি কর্মী ভিসা প্রোগ্রামের ওপর নতুনভাবে আরোপিত ১০০,০০০ ডলার ফি-কে বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে এবং তা অবৈধ ও যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করে এমন দাবি জানানো হয়েছে, কারণ এই ফি বৃদ্ধির ফলে দেশের বিভিন্ন শিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ বিদেশি শ্রমিক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়োগে ব্যর্থতা ও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে যা আমেরিকার কাজের বাজার ও সেবাদান সিস্টেমকে খারাপভাবে প্রভাবিত করছে এবং এই মামলা একটি বড় ফেডারেল লিগ্যাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণিত হচ্ছে যেখানে মূল যুক্তি হলো ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ও প্রক্রিয়াগত ভুলের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে।
13 Dec 2025 | Pic: Collected
যা আইনগতভাবে বৈধ নয় বলে দাবি করা হচ্ছে, এই ২০টি রাজ্য-এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, ন্যাশনাল অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট বন্টা নেতৃত্বে মামলাটি ম্যালিসিয়াস অর্থনৈতিক প্রভাব এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ কাজের অভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে দায়ের করেছে এবং এর ফলে আমেরিকায় শিক্ষক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসকসহ বিশেষজ্ঞ কর্মীদের অভাব আরও দৃঢ় করার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং ভিসা ফি বৃদ্ধির কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান যেমন অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, গুগল ইত্যাদি প্রযুক্তি জায়ান্টসহ বহু উচ্চপ্রযুক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী নিয়োগে সংকট এবং ব্যয়বৃদ্ধির মুখে পড়তে পারে, বহু বছর ধরে এইচ-১বি প্রোগ্রামটি যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি শ্রমিকদের সহজে ঢোকার পথ হিসেবে কাজ করছে যেখানে অনেক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদেশি-প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ করে এসেছে বলে তাতে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এই চ্যালেঞ্জিং মামলা বস্টন ফেডারেল কোর্টে দায়ের করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রগুলোর যুক্তি হলো এই অতিরিক্ত ফি শুধুমাত্র প্রশাসনিক খরচ বহন করার জন্য নয়, বরং রাজস্ব আদায় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যেখানে ফি-এর পরিমাণ পুরোনো নিয়মের ২,০০০-৫,০০০ ডলারের তুলনায় *১০০,০০০ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে যা সরাসরি আমেরিকার কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর নেতিবাচক ফল তৈরি করছে।
আইনি দলিলগুলোতে হয়রানি-ধারা ও ভিসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার প্রশ্ন তুলেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুসারে অর্থসংক্রান্ত নিয়ম ও কর্মী ভিসার মতো বিষয়গুলোতে শুধুমাত্র কংগ্রেসের অনুমোদিত আইন প্রণয়নই কার্যকর হয় বলে মামলাকারী রাষ্ট্রগুলো দাবিদার হয়েছেন। মামলাকারীরা বলছেন, এই ফি বৃদ্ধির ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি কর্মী নিয়োগে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সংকটে পড়বে এবং উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য খাতে কর্মীর অভাব দেখা দিতে পারে যা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও খাতে বড় প্রতিকূল প্রভাব ফেলবে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্তকে আমেরিকান কর্মীদের সুরক্ষা ও দক্ষ বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় পরিপ্রেক্ষিত তৈরি করার একটি পদক্ষেপ বলে নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিষয়ক দফতরের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিয়েছে, যদিও মামলাকারীরা বলেছেন এটি বিপুল ফি বৃদ্ধি ও শিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার লক্ষ্যে নেওয়া নীতিগত ভুল সিদ্ধান্ত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মামলাটা শুধু একটি আইনি সমস্যা নয়, বরং অর্থনৈতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য و প্রযুক্তি খাতেও চাপ সৃষ্টি করেছে এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থান সংকট, শিক্ষাগত কর্মী সংকট ও চিকিৎসা সেবার মানে দুর্বলতার মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে যারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দক্ষ বিদেশি কর্মী উপর নির্ভর করে সেখানে সমস্যা তীব্র হবে।
বর্তমানে মামলাটি বিচার পর্যায়ে রয়েছে এবং সার্বিক বিশ্লেষকরা, রাজ্য আইন কর্মকর্তা, শিল্প প্রতিনিধিরা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা নজর রাখছেন যে শেষ পর্যন্ত ফেডারেল আদালত এই ফি নীতির বৈধতা ঠিক করে কি না, কারণ এর ফলাফল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ শ্রমনীতি ও আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মী নিয়োগ নীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রগুলোর সবচেয়ে বড় আইনি চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং আমেরিকার রাজনৈতিক ও আইনগত পরিবেশে কঠিন বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামো, অভিবাসননীতি ও অর্থনৈতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে গভীর প্রশ্নগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে।



