যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমান তার “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি অনুযায়ী বাইডেন আমলের অধীনে নিযুক্ত প্রায় ৩০ জন রাষ্ট্রদূত ও উচ্চপদস্থ কূটনীতিককে তাদের পদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করছে, এবং তাদের মিশনে থাকা সময়সীমা আগামী জানুয়ারি ২০২৬-এ শেষ করা হবে — এমন একটি সিদ্ধান্ত সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এমন পরিবর্তনের ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাদের বিদেশ প্রতিনিধিত্ব ও কূটনৈতিক সংস্থাগুলোতে নতুন ধরনের নেতৃত্ব ও কৌশল চালুর অংশ হিসেবে দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে এমন লোকদের রাখা, যারা ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারগুলোর প্রতি অনুগত ও সহায়ক বলে বিবেচিত হবে।

22 Dec 2025 | Pic: Collected
- প্রায় ৩০ জন রাষ্ট্রদূত বা মিশন প্রধান (chiefs of mission) এর tenure বা দায়িত্বের মেয়াদ সরাসরি জানুয়ারি ২০২৬-এ শেষ হবে এবং তাদেরকে তাঁদের পোস্ট থেকে প্রত্যাহার করে ওয়াশিংটনে বা অন্যান্য কাজে বদলি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
- সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদূতরা বাইডেন প্রশাসনের সময়ে নিযুক্ত ছিলেন, এবং তাঁরা ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রথম দফায় রাজনৈতিক নিয়োগগুলো থেকে রেহাই পেয়ে টিকেছিল, কিন্তু বর্তমান পদক্ষেপে তাদেরও পদ প্রয়োগের মেয়াদ শেষ করে দেয়া হচ্ছে।
- প্রত্যাহারকৃত রাষ্ট্রদূতরা তাদের বিদেশে থাকা অবস্থানেই কোনো চাকরি হারাচ্ছেন না এবং আদেশ অনুসারে তাঁরা চাইলে ওয়াশিংটনে ফিরে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
এই ধরনের কূটনৈতিক বদল এমন সময় করা হচ্ছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি ভিন্ন মার্কিন বিদেশনীতি গঠন ও পরিচালনার চেষ্টা করছে, যার লক্ষ্য হলো ওয়াশিংটনের স্ট্র্যাটেজিক অগ্রাধিকার ও প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদেশ প্রতিনিধিদের করা।
এই সিদ্ধান্তকে একটি “মানুষ-নেতৃত্বগত পরিবর্তনস্বরূপ প্রচেষ্টা” হিসেবে বানানো হলেও, কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা ও কূটনীতিক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এটি নৈতিক ও প্রথাগত কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা হ্রাস করতে পারে এবং বিদেশে মার্কিন প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে.
একটি আমেরিকান কূটনৈতিক ইউনিয়নের প্রতিনিধির কথায়, “রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রদূতদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং তাঁদের নিয়মিত পরিবর্তন বিদেশে নীতি-কর্মের ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত যদি নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে পরিবর্তনগুলি রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।” (উল্লেখিত বিষয়ের সারসংক্ষেপ AP নিউজ থেকে)
একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী কমপক্ষে ২৯টি দেশে থেকে রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করার নোটিশ দেয়া হয়েছে। এতে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম গোলার্ধের বিভিন্ন দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এদের মধ্যে আরমেনিয়া, নেপাল, ফিজি, ফিলিপাইন, পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশ, আফ্রিকার অনেক দেশ ইত্যাদি রয়েছে।
রাষ্ট্রদূতরা সাধারণত প্রেসিডেন্টের পছন্দ অনুযায়ী নিয়োগ পেয়ে থাকেন এবং তাঁরা ঐ প্রশাসনের নীতি, উদ্দেশ্য ও দেশিক কৌশলগুলি বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তাদের মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে চার বছর থাকে, এরপর প্রেক্ষিত পরিবর্তন, কূটনৈতিক পুনরায় সমন্বয় বা প্রশাসনিক নীতি পরিবর্তনের আলোকে তাঁরা বদলানো বা প্রত্যাহার করা হয়।
এবারের এই উদ্যোগটিও ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশলগত অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে নতুন বনাম পুরানো নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় ও একরুপকরণের গুরুত্ব বেশি দেয়ার প্রেক্ষাপট কাজ করছে।
কূটনৈতিক বদল সাধারণ ঘটনা হলেও, এত সংখ্যক রাষ্ট্রদূতকে একই সময়ে প্রত্যাহার করা আন্তর্জাতিক নীতি-সূত্রে বিরক্তি, পুনর্মূল্যায়ন ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কিছু দেশ যেখানে রাষ্ট্রদূত ও স্থানীয় সম্পর্ক বেশ দৃঢ়ভাবে গড়ে উঠেছিল — সেখানে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে কিছু পরিবর্তন ও কৌশল তৈরি করা জরুরি হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি মার্কিন বিদেশনীতি ও কূটনৈতিক কর্মসম্পাদনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে, যেখানে রাষ্ট্রদূতদের রাজনৈতিক অনুগততা, প্রশাসনিক সমর্থন ও নীতি-কৌশলের সামঞ্জস্য অন্যতম মূল বিবেচনার বিষয় থাকবে।




